বাংলাদেশিদের জন্য আমেরিকার সেরা ৫ অঙ্গরাজ্য, কী আছে সেখানে?
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২, ২০২৬
আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থানের সুযোগ, করের হার এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি—এসব বিষয় বিবেচনায় কয়েকটি অঙ্গরাজ্য তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধাজনক হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের বিভিন্ন গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, টেক্সাস, মিশিগান, টেনেসি, ফ্লোরিডা ও সাউথ ডাকোটা নতুন অভিবাসী এবং কর্মজীবী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনাময় গন্তব্য হতে পারে।
বর্তমানে আমেরিকায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা প্রায় তিন লাখ। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কমিউনিটি নিউইয়র্কে। এছাড়া মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউ জার্সিতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করেন। তবে নিউইয়র্কে বাড়িভাড়া, কর এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেকেই অপেক্ষাকৃত কম ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্যের দিকে ঝুঁকছেন।
টেক্সাস
জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং কর সুবিধার কারণে টেক্সাসকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় অঙ্গরাজ্যগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ অঙ্গরাজ্যে কোনো রাজ্য আয়কর (স্টেট ইনকাম ট্যাক্স) নেই। হিউস্টন, ডালাস ও অস্টিনে বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি, হালাল খাদ্যবাজার, মসজিদ এবং বিভিন্ন পেশায় কর্মসংস্থানের সুযোগ নতুন অভিবাসীদের জন্য সুবিধা তৈরি করেছে।
মিশিগান
মিশিগানের ডেট্রয়েট ও হামট্রামেক অঞ্চলে শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ এবং উৎপাদন ও অটোমোবাইল শিল্পে কর্মসংস্থানের সুযোগ এ অঙ্গরাজ্যকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। হামট্রামেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়াও কমিউনিটির প্রভাবের একটি উদাহরণ।
টেনেসি
টেনেসিতেও কোনো রাজ্য আয়কর নেই। তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ক্রমবর্ধমান চাকরির বাজারের কারণে অনেক অভিবাসী সেখানে বসবাসে আগ্রহী হচ্ছেন। বিশেষ করে যারা ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে চান, তাদের কাছে অঙ্গরাজ্যটি একটি ভালো বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফ্লোরিডা
ফ্লোরিডায়ও কোনো রাজ্য আয়কর নেই। যদিও মায়ামির মতো কিছু শহরে বাড়িভাড়া তুলনামূলক বেশি, তবুও পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা ও সেবা খাতে কর্মসংস্থান, উষ্ণ আবহাওয়া এবং কর সুবিধার কারণে বাংলাদেশিদের আগ্রহ বাড়ছে।
সাউথ ডাকোটা
সাউথ ডাকোটায় জীবনযাত্রার ব্যয় তুলনামূলক কম এবং কোনো রাজ্য আয়কর নেই। ট্রাক পরিবহন, গুদাম ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও লজিস্টিকস খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় কর্মজীবীদের কাছে অঙ্গরাজ্যটি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কম খরচের বিষয়টি বিবেচনা করলেই হবে না। চাকরির সুযোগ, সন্তানের শিক্ষার মান, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, আবাসন ব্যয় এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতির মতো বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
এই বিশ্লেষণটি পিউ রিসার্চ সেন্টার, ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট এবং মিসৌরি ইকোনমিক রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারের (MERIC) প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যের সমন্বয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে বাড়িভাড়া, চাকরির সুযোগ ও জীবনযাত্রার ব্যয় সময় ও অঞ্চলভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আমেরিকার কোনো অঙ্গরাজ্যে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সর্বশেষ স্থানীয় তথ্য যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।



