ভুয়া কর্মসংস্থান ভিজিট পাস কেলেঙ্কারি

মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:২১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২, ২০২৬

মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অনুমোদিত ১ হাজার ৩০৬টি অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস (টেম্পোরারি এমপ্লয়মেন্ট ভিজিট পাস) বাতিল করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। একই সঙ্গে এসব পাসধারী বিদেশি কর্মীদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে বিপাকে পড়েছেন অনেক প্রবাসী কর্মী।

৩১ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের (এমএসিসি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, মাইআইএমএমএস (MyIMMS) সিস্টেমে অনিয়মের মাধ্যমে এসব ভিজিট পাস অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। ফলে সরকারের নির্ধারিত রাজস্ব আদায় হয়নি। এ কারণে অবিলম্বে সব অবৈধ পাস বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রথমে অবৈধ পাসগুলো বাতিল করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও তদন্তের স্বার্থে তাদের অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।

তদন্তে আরও জানা গেছে, সাইবার সিকিউরিটি মালয়েশিয়ার ফরেনসিক বিশ্লেষণে সিস্টেমে বাইরের কোনো হ্যাকার প্রবেশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং অভ্যন্তরীণ অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রবেশাধিকার ব্যবহার করে বিশেষ ডংল ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রশাসনিক আইডি দিয়ে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে এসব পাস অনুমোদন দেওয়া হয়।

মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কমিশনার দাতুক সেরি আব্দ হালিম আমান জানান, এ ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, তিনজন বিদেশি নাগরিক, ইমিগ্রেশন বিভাগের চার কর্মকর্তা, তথ্যপ্রযুক্তি শাখার দুই কর্মকর্তা এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১১ সালের কর্মী কোটার অপব্যবহার করে কোনো ধরনের লেভি পরিশোধ ছাড়াই ১ হাজার ৩০৬টি ভুয়া কর্মসংস্থান ভিজিট পাস ইস্যু করা হয়। এতে মালয়েশিয়া সরকারের প্রায় ২৪ লাখ রিঙ্গিত রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে, অবৈধভাবে অনুমোদিত এসব পাস বাতিল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিদেশি কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা বিভিন্ন খাতে কর্মরত ছিলেন। এখন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে চাকরি হারানোর পাশাপাশি দেশ থেকে বহিষ্কার (ডিপোর্টেশন) হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

সূত্র: মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ ও স্থানীয় গণমাধ্যম।