যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণা
লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকেও সরে দাঁড়ালেন, অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে থাকার ঘোষণা
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৬:০৬ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২৬
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে তিনি লেবার পার্টির নেতা পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর কথা জানান।
বিবৃতিতে স্টারমার সরকারের মেয়াদকালে অর্থনীতি, মজুরি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) এবং শ্রমিক অধিকার বিষয়ে লেবার সরকারের অর্জন তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “আমাদের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং সমকক্ষ দেশগুলোর তুলনায় দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। ক্ষমতায় আসার পর প্রতিটি মাসেই মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার বেশি ছিল।”
স্টারমার আরও দাবি করেন, তার সরকারের সময় অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ হয়েছে এবং কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি শেষ করা হয়েছে। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরের মধ্যে এনএইচএস–এ অপেক্ষমাণ রোগীর তালিকা দ্রুততম সময়ে কমানো সম্ভব হয়েছে এবং শ্রমিক ও ভাড়াটিয়াদের অধিকারেও বড় উন্নয়ন ঘটেছে।
লেবার পার্টির নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দল বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি—আগামী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি সবচেয়ে উপযুক্ত কি না। তিনি জানান, দলের ভেতরে এই প্রশ্নের উত্তর তিনি পেয়েছেন এবং তা “ভদ্রভাবে গ্রহণ করেছেন”।
এরপরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকেও পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
স্টারমার জানান, তিনি ইতোমধ্যে রাজা চার্লসের সঙ্গে কথা বলে তার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন। লেবার পার্টির জাতীয় নির্বাহী কমিটিকে নেতৃত্ব নির্বাচনের একটি সময়সূচি নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৯ জুলাই নতুন নেতৃত্বের জন্য মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটির আগেই তা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
দলীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের আগে পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরুর আগেই লেবার পার্টি নতুন নেতা পাবে। নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্টারমার অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
দলীয় অভ্যন্তরীণ চাপ ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই তার এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত এলো। গত কয়েক দিনে দলীয় এমপি ও মন্ত্রীদের চাপ এবং জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর তার নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে বড় জয় নিয়ে ক্ষমতায় আসা স্টারমার সরকারের সময় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও জনসেবা খাতে সংকট নিয়ে সমালোচনা বাড়ছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দলের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের দাবিই শেষ পর্যন্ত তাকে পদত্যাগের পথে ঠেলে দেয় বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা



