সুইজারল্যান্ডে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, এরপর কী?
৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির রোডম্যাপে অগ্রগতি
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৬:১২ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২৬
সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের ইরান–যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকের পর দুই দেশ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর রোডম্যাপ নিয়ে একমত হয়েছে বলে জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান। আলোচনাকে দুই পক্ষই ‘উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
লেক লুসার্নে প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী এই ম্যারাথন বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এটি গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত হয়, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর কাঠামো তৈরি করেছে।
উচ্চপর্যায়ের কমিটি ও নতুন কাঠামো
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলোচনার অগ্রগতি তদারকির জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির একটি রূপরেখা অনুমোদন করবে।
আগামী দুই মাসে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ এবং বিরোধ নিষ্পত্তি নিয়ে একাধিক কারিগরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আলোচকরা নিয়মিতভাবে অগ্রগতির তথ্য এই কমিটিকে জানাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট J. D. Vance। তার সঙ্গে ছিলেন জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।
হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা চ্যানেল
আলোচনার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ভুল বোঝাবুঝি ও সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানো।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে অঞ্চলটি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লেবানন ইস্যুতে ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো লেবাননে সংঘাত কমাতে একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠন। যৌথ কমিটি ও সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে সামরিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তবে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর অবস্থান এই কাঠামোর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অংশগ্রহণ ছাড়া এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা ও পরবর্তী জটিলতা
আলোচনায় ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল, জব্দ সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির সীমাবদ্ধতা কমানোর বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
তবে মার্কিন নীতিনির্ধারক ও বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ওয়াশিংটনের জন্য রাজনৈতিকভাবে কঠিন হতে পারে, বিশেষ করে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রশ্নে।
এখন কী হতে পারে?
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ৬০ দিন হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে কারিগরি আলোচনা, নিষেধাজ্ঞা কাঠামো এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলো নিয়ে সবচেয়ে কঠিন দরকষাকষি হবে।
চূড়ান্ত চুক্তি সফল হবে কি না, তা নির্ভর করবে তিনটি প্রধান প্রশ্নে—
ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ভবিষ্যৎ, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের পরিধি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বাস্তব সময়সূচি।
এদিকে আলোচনার প্রাথমিক ধাপে কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখা গেলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত চ্যালেঞ্জ এখনো শুরু হয়নি।



