বিদেশে কষ্ট, তবু দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন অভিবাসীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৩১ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২৬

বিদেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়ছে। তবুও পরিবারের পাশে দাঁড়াতে রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ করছেন না অভিবাসীরা। বরং নিজেদের ব্যক্তিগত খরচ কমিয়ে হলেও স্বজনদের কাছে নিয়মিত অর্থ পাঠিয়ে যাচ্ছেন তারা।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ফ্রান্সে বসবাসরত অনেক অভিবাসী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেও দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মার্সেইয়ের বিভিন্ন অর্থ স্থানান্তর প্রতিষ্ঠানে এখনও অভিবাসীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মরক্কো থেকে আসা এক অভিবাসী জানান, অস্থায়ী চাকরি করলেও অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়মিত অর্থ পাঠাতে হচ্ছে। মাসের শুরুতেই হাতে টাকা ফুরিয়ে গেলেও পরিবারের প্রয়োজনে রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ করার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।

একই অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন আরও অনেক অভিবাসী। তাদের মতে, নিজেরা কষ্টে থাকলেও বাবা-মা কিংবা পরিবারের সদস্যরা বিপদে পড়লে অর্থ পাঠানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকে না।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সংঘাত এবং বৈষম্য বৃদ্ধি সত্ত্বেও অভিবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম স্থিতিশীল আর্থিক প্রবাহ হিসেবে রয়ে গেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে শুধু ফ্রান্স থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠানো হয়েছে।

গবেষকদের মতে, রেমিট্যান্স শুধু অর্থ পাঠানোর বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে পারিবারিক দায়বদ্ধতা, মানসিক চাপ এবং আত্মত্যাগের গল্প। অনেক অভিবাসী খাদ্য, পোশাক কিংবা বিনোদনের খরচ কমিয়ে দেন, কিন্তু পরিবারের জন্য পাঠানো অর্থ কমাতে চান না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনৈতিক মন্দার সময় অনেক ক্ষেত্রেই রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে না, বরং বেড়ে যায়। কারণ সংকটের সময় দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের সহায়তা করতে অভিবাসীরা আরও বেশি অর্থ পাঠানোর চেষ্টা করেন।

তাদের মতে, রেমিট্যান্স শুধু পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাই নিশ্চিত করে না, বরং বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক জোরদার করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।