নেপালে ভয়াবহ মানব পাচার, সবচেয়ে ঝুঁকিতে নারী ও শিশু

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:৩২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২৬

নেপালে মানব পাচারের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। দারিদ্র্য, বেকারত্ব, সামাজিক বৈষম্য এবং বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভনের সুযোগ নিয়ে সক্রিয় পাচারকারী চক্র প্রতি বছর হাজারো নারী, শিশু ও তরুণকে শোষণের ফাঁদে ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানব পাচার এখন শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি দেশের অন্যতম বড় মানবাধিকার ও সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাচারকারীরা বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরি, বিনা খরচে ভিসা কিংবা উন্নত জীবনের আশ্বাস দিয়ে মানুষকে প্রলুব্ধ করে। পরে তাদের অনেককে জোরপূর্বক শ্রম, যৌন শোষণ, গৃহকর্মে দাসত্ব বা অন্যান্য নির্যাতনের শিকার হতে হয়। নারী ও শিশুরা এ ধরনের অপরাধের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী।

কোভিড-১৯ মহামারির পর অর্থনৈতিক সংকট, কর্মসংস্থানের অভাব এবং আয় কমে যাওয়ায় নেপালে মানব পাচারের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী দরিদ্র অঞ্চলগুলোর মানুষ সহজেই দালাল চক্রের টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, মানব পাচারের সঠিক পরিসংখ্যান এখনো পাওয়া কঠিন। অনেক ঘটনা অভিযোগ আকারে সামনে আসে না, আবার সীমান্ত পেরিয়ে সংঘটিত অপরাধের তথ্যও অনেক সময় নথিভুক্ত হয় না। ফলে কার্যকর নীতি প্রণয়ন ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

মানব পাচার রোধে বিশেষজ্ঞরা দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময় বৃদ্ধি এবং পাচারের শিকার ব্যক্তিদের চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তাদের মতে, শুধু আইন প্রয়োগ করলেই মানব পাচার বন্ধ করা সম্ভব নয়। সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।