প্রবাসী কার্ডে বিমানের টিকিটে ছাড়, নামজারিতে অগ্রাধিকার

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:৪৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২৬

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য চালু হওয়া ‘প্রবাসী কার্ড’ এখন শুধু পরিচয়ের মাধ্যম নয়, বরং বিভিন্ন সরকারি সেবায় বিশেষ সুবিধা পাওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি করছে। বিমান ভ্রমণ থেকে শুরু করে ভূমি-সংক্রান্ত সেবায়ও কার্ডধারীরা অগ্রাধিকার পাবেন।

মঙ্গলবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।

সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রবাসীদের শুধু রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে নয়, বাস্তব জীবনেও যথাযথ মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রবাসী কার্ড চালু করেছে।

পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিটে বিশেষ ছাড় এবং বলাকা লাউঞ্জ ব্যবহারে ডিসকাউন্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য শাটল বাস সেবাও চালু করা হয়েছে। সরকার বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের হোটেল ও মোটেলগুলোতে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি Priority Check-in এবং Priority Boarding সুবিধাও পাবেন প্রবাসী কার্ডধারীরা।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ অনুযায়ী, প্রবাসী কার্ডধারীরা ভূমি অফিসে অগ্রাধিকারভিত্তিক সেবা পাবেন। প্রবাসী ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, নামজারি (মিউটেশন) এবং অন্যান্য ভূমি-সংক্রান্ত সেবা দ্রুত সম্পন্ন করার সুযোগ থাকবে।

এছাড়া ভূমি অফিসে প্রবাসী কর্নার স্থাপন এবং পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল সম্পাদনেও অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা ও সেবার মান বাড়াতে প্রবাসী কার্ড চালু করা হচ্ছে। এসব সেবা কার্যকরভাবে সমন্বয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি ফোকাল পয়েন্টও নির্ধারণ করা হবে, যাতে প্রবাসীরা দ্রুত ও ঝামেলামুক্তভাবে ভূমি-সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করতে পারেন।