শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় ৩ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪:২১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২৬

বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় তিন ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। লন্ডনভিত্তিক বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান Henley & Partners প্রকাশিত Henley Passport Index 2026 অনুযায়ী, বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯৭তম। একই অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়া।

নতুন সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ৩৫টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া অথবা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধায় ভ্রমণ করতে পারেন। তালিকায় বাংলাদেশের নিচে রয়েছে নেপাল, সোমালিয়া, ইয়েমেন, পাকিস্তান, ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তান।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট মালদ্বীপের, যার অবস্থান ৫২তম। দেশটির নাগরিকরা ৯৩টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পান। ভারতের অবস্থান ৮১তম, যেখানে ভারতীয় নাগরিকরা ৫৫টি দেশে এ সুবিধা ভোগ করেন। শ্রীলঙ্কা রয়েছে ৯৪তম স্থানে, তাদের নাগরিকরা ৩৯টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। বাংলাদেশের পরেই রয়েছে নেপাল (৯৮তম) এবং পাকিস্তান (১০১তম)। তালিকার একেবারে শেষ স্থানে রয়েছে আফগানিস্তান, যার নাগরিকরা মাত্র ২২টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পান।

২০২৬ সালের সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের অবস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা ১৯২টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধায় ভ্রমণ করতে পারেন। যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত, যাদের নাগরিকরা ১৮৮টি দেশে প্রবেশাধিকার পান। তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন, যার নাগরিকরা ১৮৭টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন।

যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ ও নরওয়ে। এসব দেশের নাগরিকরা ১৮৬টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পান।

হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স জানিয়েছে, সূচক চালুর গত ২০ বছরে বৈশ্বিক ভ্রমণ সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে একটি পাসপোর্ট গড়ে ১০৮টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা দেয়, যেখানে ২০০৬ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৫৮টি।

তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বৈষম্যও বেড়েছে। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টধারীরা ১৯২টি গন্তব্যে ভ্রমণ করতে পারলেও সবচেয়ে দুর্বল পাসপোর্টধারীরা যেতে পারেন মাত্র ২২টি দেশে। অর্থাৎ দুই প্রান্তের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৭০টি গন্তব্যে।