লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টার থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২৬
লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) এবং লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় তাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়েছে।
প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিরা বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে সোমবার (৭ জুলাই) ভোর ৫টায় ঢাকায় পৌঁছান।
বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, দেশে ফেরা ব্যক্তিদের মধ্যে ১১১ জন ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার এবং ৬৩ জন বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন।
লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ ত্রিপলীর মেতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রত্যাবাসিতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের বিদায় জানান। এ সময় দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) ও প্রথম সচিব (শ্রম) উপস্থিত ছিলেন।
দেশে ফেরার আগে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাবাসিতদের প্রি-ডিপার্চার ব্রিফিং দেন। তিনি অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পথে বিদেশে যাওয়ার কারণে অনেকেই আর্থিক, শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির শিকার হন। তাই দেশে ফিরে নিজেদের অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
দূতাবাস জানিয়েছে, স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী এবং লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনে নিয়মিতভাবে কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে লিবিয়া সরকার, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে লিবিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর দেশটি ইউরোপগামী অনিয়মিত অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়। উন্নত জীবনের আশায় বহু মানুষ লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। তবে এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় প্রতিবছর বহু অভিবাসী মানবপাচার, নির্যাতন, আটক এবং প্রাণহানির শিকার হন।



