বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণা, যেসব লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হবেন
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:০৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২৬
উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন অনেক বাংলাদেশি। তবে এই স্বপ্নকে পুঁজি করে সক্রিয় রয়েছে মানব পাচারকারী ও দালাল চক্র। তারা ইতালি, গ্রিস, লিবিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকে নিখোঁজ হচ্ছেন, আবার কেউ কেউ প্রাণও হারাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতারকরা সাধারণত “নিশ্চিত ভিসা”, “১০০% গ্যারান্টি”, “দ্রুত প্রসেসিং”, “ভিআইপি রুট”, “গেইমে ইউরোপ পাঠানো হবে”—এ ধরনের লোভনীয় কথাবার্তা বলে মানুষের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করে। তারা দূতাবাস বা বিমানবন্দরে নিজেদের বিশেষ যোগাযোগ থাকার দাবিও করে।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ট্রাভেল এজেন্সির নামে কম খরচে ইউরোপের ভিসা বা নিশ্চিত চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলা হয়।
প্রতারকরা প্রায়ই ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট, নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC), আমন্ত্রণপত্র (Invitation Letter) এবং চাকরির অফার লেটার তৈরি করে। এসব নথিতে জাল সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হতে পারে। যাচাই-বাছাই না করেই অর্থ পরিশোধ করলে বড় ধরনের আর্থিক ও আইনি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
ভিসার সত্যতা যাচাই করবেন যেভাবে
ভিসার MRZ (Machine Readable Zone) কোড স্ক্যান করে তথ্য মিলিয়ে দেখুন।
সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বা কনস্যুলেটের ওয়েবসাইটে ভিসার তথ্য যাচাই করুন।
VFS Global বা অনুমোদিত ভিসা আবেদন কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদন করুন।
ভিসার ইস্যু তারিখ, মেয়াদ, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং পাসপোর্ট নম্বর ভালোভাবে মিলিয়ে দেখুন।
ভিসা হাতে পাওয়ার আগেই কেউ পুরো টাকা দাবি করলে সতর্ক হন।
আপনি যদি প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে মনে করেন, তাহলে দ্রুত স্থানীয় থানায় অভিযোগ করুন। পাশাপাশি বিএমইটি (BMET), রামরু (RMMRU), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দালালদের ভুয়া বিজ্ঞাপন দেখলে সাইবার ক্রাইম ইউনিট বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও অবহিত করুন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে যাওয়ার সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো সরকারি ও অনুমোদিত চ্যানেলের মাধ্যমে ভিসা ও চাকরির আবেদন করা। মনে রাখবেন, “সহজে ভিসা”, “নিশ্চিত চাকরি” বা “১০০ শতাংশ গ্যারান্টি”—এ ধরনের দাবি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রতারণার বড় সতর্কসংকেত।



