সৌদি রুটে বাড়ছে ফ্লাইট, সপ্তাহে চলবে ৮৪টি যাত্রীবাহী ফ্লাইট
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৮:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২৬
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ আরও বাড়ছে। নতুন সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় দুই দেশের মনোনীত এয়ারলাইনগুলো এখন সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৮৪টি যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। আগে এই সংখ্যা ছিল ৪৯টি। ফলে সপ্তাহে অতিরিক্ত ৩৫টি যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
একই সঙ্গে সপ্তাহে ২১টি কার্গো ফ্লাইট, পঞ্চম স্বাধীন ট্রাফিক অধিকার, কোড-শেয়ারিং, কো-টার্মিনালাইজেশন এবং লিজ নেওয়া উড়োজাহাজ পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে হজ ও ওমরাহযাত্রী, সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশি এবং রপ্তানিকারকেরা উপকৃত হবেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেবিচক সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, নতুন সমঝোতার ফলে দুই দেশের এয়ারলাইনগুলো সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৮৪টি যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। বাড়তি ফ্লাইটের ফলে হজ মৌসুমে অতিরিক্ত যাত্রী ও আসনসংকট মোকাবিলা সহজ হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এয়ারলাইনগুলোও ফ্লাইট বাড়াতে পারবে।
তিনি জানান, সৌদি আরবে বসবাস ও কর্মরত প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশি নতুন এই সমঝোতার সুফল পাবেন। ফ্লাইট ও আসনসংখ্যা বাড়লে তাদের দেশে আসা-যাওয়া আরও সহজ হবে। পাশাপাশি এয়ারলাইনগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়লে তুলনামূলক কম ভাড়ায় টিকিট পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নতুন সমঝোতায় ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা ও জেদ্দার সঙ্গে দেশের আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোর সরাসরি বিমান যোগাযোগ বাড়তে পারে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সপ্তাহে ২১টি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে। বেবিচকের মতে, এর ফলে তৈরি পোশাক, শাকসবজি, ফলমূলসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্য দ্রুত সৌদি বাজারে পাঠানো সম্ভব হবে।
নতুন সমঝোতায় পঞ্চম স্বাধীন ট্রাফিক অধিকারও দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশের মনোনীত এয়ারলাইনগুলো সৌদি আরব হয়ে স্পেন, জার্মানিসহ নির্ধারিত তৃতীয় দেশের গন্তব্যে কার্গো সেবা পরিচালনা করতে পারবে। এতে বাংলাদেশের এয়ার কার্গো নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশকে আঞ্চলিক কার্গো সংযোগকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে বেবিচক।
সমঝোতায় কোড-শেয়ারিংয়ের সুযোগও রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে দুই দেশের মনোনীত এয়ারলাইনগুলো নিজেদের, অপরপক্ষের কিংবা তৃতীয় দেশের এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে কোড-শেয়ারিং ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা করতে পারবে।
এ ছাড়া কো-টার্মিনালাইজেশনের মাধ্যমে একই ফ্লাইটে একটি দেশের একাধিক গন্তব্যে সেবা দেওয়ার সুযোগ থাকছে। ব্যস্ত মৌসুমে অতিরিক্ত উড়োজাহাজ ব্যবহারের জন্য লিজ নেওয়া বিমান পরিচালনার সুযোগও রাখা হয়েছে।
বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, নতুন সমঝোতা শুধু ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে হজ ও ওমরাহযাত্রীদের যাতায়াত, প্রবাসীদের যোগাযোগ, কার্গো পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি এটি বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন ও কার্গো হাব হিসেবে বিকাশে ভূমিকা রাখবে।



