রোমের হোটেলে অপরিচ্ছন্ন কক্ষ, ২০০ ইউরো জরিমানার দাবি; জেমসের ব্যাখ্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩:১৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০২৬

ইতালির রোমে কনসার্টে অংশ নিতে গিয়ে হোটেলের কক্ষ অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে জনপ্রিয় রকশিল্পী মাহফুজ আনাম জেমস ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতার জন্য ২০০ ইউরো ফি দাবি করেছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।

তবে জেমসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যে কক্ষটি নিয়ে মূল অভিযোগ উঠেছে, সেখানে তিনি ছিলেন না। জেমস নিজেও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলে জানিয়েছেন, তিনি ছিলেন অন্য একটি কক্ষে।

১৬ আগস্ট রোমে একটি কনসার্টে অংশ নেন জেমস ও তাঁর দল। এ সময় তাঁদের জন্য চারটি অ্যাপার্টমেন্ট বুক করা হয়েছিল। পরে হোটেলের হাউসকিপিং কর্মীরা কক্ষগুলো পরিদর্শন করে অপরিচ্ছন্নতার বিষয়টি দেখতে পান বলে হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

হোটেল কর্তৃপক্ষের পাঠানো ছবি ও বার্তার বরাতে জানা যায়, একটি কক্ষে মেঝেতে পানির বোতল ও বিভিন্ন বর্জ্য, টেবিলে খাবারের উচ্ছিষ্ট ও ব্যবহৃত প্লেট-বাসন এবং রান্নাঘরের সিঙ্কে অপরিষ্কার থালা-বাসন পড়ে ছিল। একটি কক্ষে কাঁচা ডিম পড়ে থাকার ছবিও ছড়িয়ে পড়ে।

হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কক্ষগুলোর মধ্যে ৫৪৯ নম্বর অ্যাপার্টমেন্টের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ ছিল। সেটি পরিষ্কার করতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় ও শ্রম প্রয়োজন হয়। এ কারণে ২০০ ইউরো অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতার ফি ধার্য করা হয়।

জেমসের ব্যাখ্যা

অভিযোগের বিষয়ে জেমসের বিজনেস ম্যানেজার রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন বলেন, জেমস ছিলেন ৩৪৫ নম্বর কক্ষে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ৫৪৯ নম্বর কক্ষে ছিলেন দলের একজন গিটারিস্ট। তাই ওই কক্ষের অবস্থার দায় জেমসের ওপর দেওয়া ঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

পরবর্তী সময়ে জেমস নিজেও বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “ওই রুমে আমি ছিলামই না।” তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ৫৪৯ নম্বর কক্ষে দলের একজন তরুণ গিটারিস্ট ছিলেন। বিষয়টিকে তিনি বড় কোনো ঘটনা হিসেবেও দেখছেন না।

চেক-আউট নিয়েও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, অতিথিরা রিসেপশনে কোনো যোগাযোগ না করেই হোটেল ছেড়ে গিয়েছিলেন। তবে জেমসের ম্যানেজার এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তাঁরা নিয়ম মেনেই চেক-আউট করেছেন।

হোটেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০০ ইউরোর ফিটি জেমসের নামে নয়, বরং কক্ষগুলো বুক করা আয়োজক প্রতিনিধি মোয়াজের নামে ধার্য করা হয়েছে। মোয়াজ জানিয়েছেন, তিনি এখনো ওই অর্থ পরিশোধ করেননি এবং জেমসের কাছ থেকে তা আদায়ের চেষ্টা করবেন।

এদিকে রোমের কনসার্টকে কেন্দ্র করে জেমসের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগসহ আরও কিছু অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রয়েছে এবং সব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

সূত্র: কালের কণ্ঠ