মানবতাবিরোধী অপরাধ: আ. লীগের সাত নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৩৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা দিয়েছে তদন্ত সংস্থা। সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রসিকিউশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এই সাত নেতা হলেন—আমির হোসেন আমু, দীপু মনি, শাজাহান খান, কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান, আব্দুর রাজ্জাক, মির্জা আজম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত প্রতিবেদনটি বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়া শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হতে পারে। অভিযোগপত্র দাখিল ও ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই বিচারিক কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি নির্ভর করছে।

তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে হামলা, উসকানি ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন ও অন্যান্য অমানবিক আচরণের মতো অপরাধে প্ররোচনা, উসকানি, সহায়তা ও সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে ব্যর্থতা, দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত না করা এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, সাত আসামির মধ্যে আমির হোসেন আমু, শাজাহান খান, কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান ও মির্জা আজমের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে প্রথমবারের মতো বিচারিক কার্যক্রম শুরু হতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল এবং ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের আগে বিচার শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

সাত নেতাই তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তাঁদের ভূমিকা, আন্দোলন দমনে কথিত নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।

তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই শেষে প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করলে মামলার পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া এগোবে। অভিযোগের সত্যতা ও আসামিদের দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে।