অপমানের কথা জানিয়েছিলেন স্ত্রীকে, সকালে কারখানায় গিয়ে কর্মকর্তার মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮:২৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

আশুলিয়ার নরসিংহপুরে শারমিন গ্রুপের একটি তৈরি পোশাক কারখানার বহুতল ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মো. জামাল উদ্দিন (৩৯) নামে এক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও নিহতের পরিবার ও সহকর্মীদের দাবি, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।

জামাল উদ্দিন শারমিন গ্রুপের ডিভিশন-৩-এর সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি গাজীপুর সদর থানার বুরুলিয়া ডুয়েট এলাকার মৃত মো. সেকেন্দার আলীর ছেলে।

পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিত হত্যা

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, অফিসের কোনো বিষয় নিয়ে আক্রোশের জেরে জামাল উদ্দিনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তাঁদের মরদেহ দেখতে না দিয়েই মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

নিহতের ভাই ফখরুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, সকালে অফিসে যাওয়ার পর সাড়ে ৯টার দিকে তাঁদের জানানো হয়, জামাল ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা গেছেন। তাঁর দাবি, ছোট সন্তান রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠিত কর্মকর্তা হওয়ায় জামাল আত্মহত্যা করতে পারেন না। ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যা দাবি করে তিনি কারখানা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ করেন।

অপমানের কথা জানিয়েছিলেন স্ত্রীকে

নিহতের স্ত্রী নাহারের দাবি, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মুঠোফোনে কথা বলার সময় জামাল তাঁকে জানান, কারখানায় তাঁকে অপমান করা হয়েছে। বুধবার সকালেও তাঁদের কথা হয়। তখন জামাল মালিকের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বলে জানান তিনি।

নাহারের ভাষ্য, তিনি জামালকে অফিসে যেতে নিষেধ করেছিলেন। তবে জামাল আশঙ্কা করেছিলেন, অফিসে না গেলেও তাঁকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হতে পারে। এরপর অফিসে যাওয়ার পর তিনি আর ফোন ধরেননি।

প্রায় দুই ঘণ্টা পর একজন ফোন রিসিভ করে জামাল অসুস্থ বলে জানান এবং হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে পরিবারকে তাঁর আত্মহত্যার খবর জানানো হয়। তবে তাঁর স্ত্রী এ দাবি মানতে নারাজ।

সিসিটিভি ফুটেজের কথা জানাল কর্তৃপক্ষ

শারমিন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাইল হোসেন বলেন, জামাল উদ্দিন বুধবার নির্ধারিত সময়ের আগেই অফিসে এসেছিলেন। তাঁরা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেছেন এবং তা সাংবাদিক ও পুলিশকে সরবরাহ করেছেন।

তাঁর দাবি, ফুটেজে জামালকে নিজে ছাদে যেতে, প্রায় দুই মিনিট ফোনে কথা বলতে এবং পরে ছাদের নিরাপত্তা দেয়ালের ওপর প্রায় ১৫ মিনিট বসে থাকতে দেখা গেছে। এরপর তিনি লাফিয়ে পড়েন।

ইসমাইল হোসেন বলেন, পুলিশ তদন্ত করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে জামালকে মারধর করা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যেতে পারে।

ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে মরদেহ

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফাহিম জানান, প্রাথমিক সুরতহালে নিহতের হাত-পা ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা এবং ছাদ থেকে পড়ে নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হওয়ার বিষয়টি দেখা গেছে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে।