যুক্তরাজ্যে নিশ্চিত ভিসা ও চাকরির প্রলোভন, সতর্কবার্তা
সতর্কবার্তা জারি করল ব্রিটিশ হাইকমিশন
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২৬
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার ক্ষেত্রে ‘নিশ্চিত ভিসা’ বা ‘নিশ্চিত চাকরির’ প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশটিতে গমনেচ্ছুদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) হাইকমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিশেষ ‘মাইগ্রেশন অ্যালার্ট’-এ এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
ভুয়া দাবি ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা
হাইকিমিশনের বার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের ভিসা নিয়ে ভুয়া দাবি ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতারকচক্র গ্যারান্টি দিয়ে ভিসা বা চাকরির নিশ্চয়তা দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। হাইকমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো প্রলোভনে যেন কেউ সাড়া না দেন।
সন্দেহ হলে অভিযোগ ও তথ্যের উৎস
ভিসা আবেদন সংক্রান্ত সঠিক তথ্য ও প্রক্রিয়ার জন্য সর্বদা যুক্তরাজ্যের সরকারি ওয়েবসাইট (GOV.UK) যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কেউ যদি প্রতারণার শিকার হন বা কোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম লক্ষ্য করেন, তবে পরিচয় গোপন রেখে নিম্নোক্ত ইমেইল ঠিকানায় অভিযোগ করতে পারবেন: 📩 BangladeshVisaFraud@fcdo.gov.uk
ভিসা জালিয়াতির পরিণাম
ব্রিটিশ হাইকমিশন পুনরায় সতর্ক করে জানিয়েছে, কেউ যদি জাল নথিপত্র বা অবৈধ উপায়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের চেষ্টা করেন, তবে তাকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এর মধ্যে ওই ব্যক্তির ওপর সর্বোচ্চ ১০ বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।
আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি ভিসা প্রতারণা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বেড়েছে:
-
যৌথ সতর্কবার্তা: গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি ও জার্মানিসহ ১৩টি পশ্চিমা দেশ যৌথভাবে ভিসা প্রতারণা রোধে সতর্কবার্তা জারি করে।
-
ব্র্যাকের তথ্য: বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক-এর মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম জানিয়েছে, উন্নত দেশে পাঠানোর নাম করে মানবপাচারকারী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে তরুণদের নেপাল বা লিবিয়াতে নিয়ে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের মতো ভয়ংকর ঘটনাও ঘটছে।
সারসংক্ষেপ: বিদেশ যাওয়ার আগে দালালের কথায় প্রলুব্ধ না হয়ে সরাসরি হাইকমিশনের ওয়েবসাইট এবং বৈধ এজেন্সির মাধ্যমে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। একটি ভুলের কারণে কেবল অর্থ নয়, সারাজীবনের জন্য বিদেশ ভ্রমণের সুযোগও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।



