সৌদি নেতৃত্বাধীন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ; কী লাভ, কী ঝুঁকি?
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১:৫৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০২৬
লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর হামলা থেকে আন্তর্জাতিক নৌপথ সুরক্ষায় সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্সে প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। ১৪ দেশের এই জোটের লক্ষ্য বাব আল-মান্দেব প্রণালী, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশের এ পদক্ষেপকে কেউ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন এতে মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূরাজনীতিতে নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লোহিত সাগরে হুতিদের নৌ অবরোধ ও জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এসব কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য হুমকি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবাধ নৌ চলাচলের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের প্রায় সব আমদানি-রপ্তানি সমুদ্রপথনির্ভর হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গেও সম্পর্কিত। এ জোটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহযোগিতায় বাংলাদেশের ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হবে।
এ ছাড়া সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের সুযোগ বাড়তে পারে। এতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিরও সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, জোটে যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ পরোক্ষভাবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবের মুখে পড়তে পারে। হুতি গোষ্ঠী ইতোমধ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন এ উদ্যোগের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ফলে জোটভুক্ত দেশগুলোর ওপর নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও তার মিত্রদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ওপরও এ সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক কৌশলগত প্রতিযোগিতার মধ্যেও ঢাকাকে সতর্ক ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
তাঁদের মতে, বাংলাদেশ যদি জোটে কেবল সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সুরক্ষা এবং প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতার মধ্যেই ভূমিকা সীমিত রাখে, তাহলে লাভের সম্ভাবনাই বেশি। তবে ভবিষ্যতে কোনো সামরিক সংঘাতে সরাসরি সম্পৃক্ত হলে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বাড়তে পারে।



