সীমান্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মরক্কো থেকে স্পেনে ঢোকা বেশির ভাগ অভিবাসী ফিরেছে
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:৫৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০২৬
মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকার স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় প্রবেশ করা অধিকাংশ অভিবাসী ইতোমধ্যে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। স্পেনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করা ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষের বড় অংশকে ফেরত পাঠানো হয়েছে অথবা তাঁরা স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নজিরবিহীন অভিবাসী ঢলের সময় অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের বেশির ভাগই সমুদ্রপথে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যান।
৩০ জুলাই সীমান্তে হঠাৎ হাজার হাজার মানুষ জড়ো হলে সেউতার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে। মাত্র ৮৪ হাজার জনসংখ্যার শহরটিতে অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রবেশে খাদ্য, আশ্রয় ও নিরাপত্তা সংকট দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করে স্পেন সরকার।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এ ঘটনাকে দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর আঘাত বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, মানব পাচারকারী চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে হাজারো মানুষকে সীমান্ত অতিক্রমে উৎসাহিত করেছে।
এদিকে নিরাপত্তা জোরদারে ইতালি সাময়িকভাবে স্পেন থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ পুনর্বহাল করেছে। আগামী এক মাস নন-ইইউ নাগরিকদের জন্য বিশেষ যাচাই কার্যক্রম চালানো হবে। ফ্রান্সও স্পেন সীমান্তে অতিরিক্ত তল্লাশি ও নজরদারি বাড়িয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেছেন, নিয়ম মেনে না এলে কাউকে ইউরোপে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
ঘটনাটি স্পেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দল ভক্স সরকারের অভিবাসন নীতির কঠোর সমালোচনা করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের পদত্যাগের দাবি তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রও স্পেনের অভিবাসন নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, সরকারের বর্তমান নীতি অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মরক্কো সীমান্তে যথেষ্ট কঠোর অবস্থান না নেওয়ায় এত অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেউতায় প্রবেশ করতে পেরেছেন। মরক্কো দীর্ঘদিন ধরে সেউতা ও মেলিলাকে নিজেদের অধিকৃত ভূখণ্ড দাবি করে আসায় এ ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক কারণও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা ইউরোপে অভিবাসন সংকটকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে এটি স্পেনের জন্য মানবিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।



