কানাডার কুইবেকে পরিবার স্পন্সরশিপের নতুন আবেদন শুরু ২ জুলাই
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:০০ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২৬
কানাডার কুইবেক প্রদেশ পরিবার স্পন্সরশিপ কর্মসূচির আওতায় নতুন আবেদন গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। প্রদেশটির অভিবাসন দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২ জুলাই থেকে পরিবারভিত্তিক স্পন্সরশিপের আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।
কুইবেকের অভিবাসন, ফ্রান্সাইজেশন ও ইন্টিগ্রেশন মন্ত্রণালয় (এমআইএফআই) জানিয়েছে, ২০২৬ থেকে ২০২৮ সময়কালে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৭০০টি আবেদন গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে স্বামী-স্ত্রী বা জীবনসঙ্গীর জন্য ১৩ হাজার ৩০০টি এবং বাবা-মা, দাদা-দাদি বা নানা-নানির জন্য ২ হাজার ৪০০টি আবেদন গ্রহণ করা হবে।
নতুন নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী নির্ভরশীল সন্তানদের স্পন্সরশিপ আবেদনের ক্ষেত্রে আর কোনো নির্ধারিত সীমা থাকবে না। ফলে এ ধরনের আবেদন কোটা সীমাবদ্ধতার বাইরে থাকবে।
তবে নির্ধারিত সংখ্যার বেশি আবেদন জমা পড়লে অতিরিক্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে না এবং আবেদনকারীদের ফি ফেরত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অভিবাসন দপ্তর আরও জানিয়েছে, নতুন আবেদন গ্রহণের পাশাপাশি আগে জমা হওয়া আবেদনগুলোও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে।
এমআইএফআই বলেছে, অনাথ শিশু, দত্তক নেওয়া শিশু কিংবা চলমান কোনো আবেদনে নতুন নির্ভরশীল সদস্য যুক্ত করার ক্ষেত্রে এই সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য হবে না।
কুইবেকের পরিবার স্পন্সরশিপ প্রক্রিয়া কানাডার অন্যান্য প্রদেশের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। এখানে পরিবারের সদস্যকে স্পন্সর করতে হলে প্রথমে কুইবেক সিলেকশন সার্টিফিকেট (সিএসকিউ) সংগ্রহ করতে হয়। এরপর ফেডারেল পর্যায়ে স্থায়ী বসবাসের আবেদন জমা দেওয়া যায়।
উল্লেখ্য, কুইবেক প্রথমবারের মতো পরিবার স্পন্সরশিপ আবেদনে সীমা আরোপ করে ২০২৪ সালের জুনে। সে সময় প্রাপ্তবয়স্ক নির্ভরশীল সন্তানদেরও কোটার আওতায় রাখা হয়েছিল। তবে শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতার কারণে আর্থিকভাবে নির্ভরশীল সন্তানদের জন্য বিশেষ ছাড় ছিল।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নির্ধারিত কোটা দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়। স্বামী-স্ত্রী ও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য বরাদ্দকৃত আবেদনসংখ্যা ৯ জুলাইয়ের মধ্যেই পূর্ণ হয়েছিল। আর বাবা-মা ও দাদা-দাদির জন্য নির্ধারিত কোটা পূর্ণ হয় ২২ জুলাইয়ের মধ্যে।
বর্তমান কানাডীয় অভিবাসন আইনে ২২ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানকে সাধারণত নির্ভরশীল সন্তান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে শারীরিক বা মানসিক কারণে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিকভাবে নির্ভরশীল থাকলে ২২ বছরের বেশি বয়সী সন্তানও নির্ভরশীল হিসেবে গণ্য হতে পারেন।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন সিদ্ধান্তের ফলে পরিবার পুনর্মিলনের সুযোগ আরও সহজ হবে এবং বিশেষ করে নির্ভরশীল প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের ক্ষেত্রে আবেদন প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধাজনক হবে।



