বাংলাদেশিদের সাফল্য কমেছে

অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষার্থী ভিসায় বাড়ছে কড়াকড়ি

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬

এক বছর আগেও বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনের সাফল্যের হার ছিল প্রায় ৯৮ শতাংশ। তবে চলতি বছরে সেই হার নাটকীয়ভাবে কমে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। এর পেছনে বাংলাদেশের ‘এভিডেন্স লেভেল’ পরিবর্তন এবং ভিসা আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে বাড়তি কড়াকড়িকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশকে এভিডেন্স লেভেল ওয়ানে উন্নীত করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তখন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদনের প্রায় ৯৮ শতাংশই অনুমোদন পেত। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশকে আবার এভিডেন্স লেভেল থ্রিতে নামিয়ে আনা হয়। এরপর থেকেই ভিসা প্রক্রিয়ায় বাড়তি যাচাই-বাছাই শুরু হয়।

স্টাডিনেটের কান্ট্রি ডিরেক্টর জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের জুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনের সাফল্যের হার ২২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছে। এভিডেন্স লেভেল থ্রিতে থাকার অর্থ হলো বাংলাদেশ থেকে করা আবেদনগুলোকে তুলনামূলক উচ্চ ঝুঁকির হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশন আবেদনকারীদের তথ্য ও নথিপত্র আরও সতর্কতার সাথে যাচাই করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ভিসা আবেদনকারীদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই। তবে আবেদন করার আগে কোন বিষয়গুলোতে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, তা ভালোভাবে বুঝে প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। যথাযথ প্রস্তুতি না থাকলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

নিউরন এডুকেয়ারের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার জয়ন্ত বড়ুয়া বলেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ সঠিক দিকনির্দেশনা পাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে আগের পড়াশোনার সাথে সামঞ্জস্য না রেখে বিষয় নির্বাচন করা হচ্ছে। সেই বিষয়টি ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে কীভাবে কাজে আসবে, সেটিও ভিসা আবেদনে যথাযথভাবে তুলে ধরা যাচ্ছে না।

স্টুডেন্ট মাইগ্রেশনের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষার পর অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ভিসা প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়েছে। স্টাডিনেটের কান্ট্রি ডিরেক্টর নাহিদ ইসলামের মতে, কোনো একটি নির্দিষ্ট কারণে ওই দুই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের আবেদন যাচাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশন তুলনামূলক কঠোর অবস্থানে ছিল।

ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আবেদন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও অন্যান্য প্রস্তুতিতে খরচ করার পর ভিসা না পাওয়ায় সেই অর্থের একটি বড় অংশই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

তবে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বাড়লেও বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। গত দুই বছরে গড়ে ৯ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষার্থী ভিসা পেয়েছেন।

এভিডেন্স লেভেল থ্রিতে থাকা অবস্থায় অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়া, সঠিক বিষয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচন, আগের পড়াশোনার সাথে সামঞ্জস্য এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।