অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য ছাড়ের দাবি
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৩০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকায় আর্থিক চাপে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এই পরিস্থিতিতে দেশীয় সব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর জন্য কনসেশন কার্ড এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দেশীয় শিক্ষার্থীদের মতো গণপরিবহন ভাড়ায় ছাড় দেওয়ার দাবি জানিয়েছে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শীর্ষ সংগঠন ইউনিভার্সিটিজ অস্ট্রেলিয়া।
সংগঠনটির দাবি, ২০২১ সালের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে ২৭ শতাংশ, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি খরচ ৩৯ শতাংশ এবং জ্বালানির দাম বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। ফলে শিক্ষার্থীদের ওপর জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার ফর স্টুডেন্ট ইক্যুইটি অ্যান্ড সাকসেসের প্রকাশিত এক গবেষণায়ও শিক্ষার্থীদের আর্থিক সংকটের চিত্র উঠে এসেছে। এতে দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি তিনজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর একজন আর্থিক অনিরাপত্তার মধ্যে রয়েছেন।
ইউনিভার্সিটিজ অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী লুক শিহি বলেন, শিক্ষার্থীরা বর্তমানে কঠিন সময় পার করছেন। সরকার চাইলে এখনই কিছু বাস্তব পদক্ষেপ নিয়ে তাদের ওপর থাকা আর্থিক চাপ কমাতে পারে।
সংগঠনটির অন্যতম দাবি, প্রত্যেক দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার সময় একটি কনসেশন কার্ড দেওয়া। তাদের মতে, এই কার্ডের মাধ্যমে ওষুধ, গণপরিবহন এবং ইউটিলিটি বিলের মতো প্রয়োজনীয় খরচ কমানো সম্ভব হবে।
বর্তমানে কিছু দেশীয় শিক্ষার্থী আয়ভিত্তিক সহায়তা বা অন্যান্য যোগ্যতার ভিত্তিতে হেলথ কেয়ার কার্ড পাওয়ার সুযোগ পান। তবে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি থাকার কারণে সব শিক্ষার্থী এই সুবিধার আওতায় আসেন না।
এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বিস্তৃত সহায়তার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছে ইউনিভার্সিটিজ অস্ট্রেলিয়া। সংগঠনটির মতে, শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ কমাতে কনসেশন কার্ড চালু করা একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্যও বড় ধরনের ছাড়ের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। অস্ট্রেলিয়ার যে কোনো রাজ্য বা অঞ্চলে পড়াশোনা করলেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দেশীয় শিক্ষার্থীদের সমান গণপরিবহন ভাড়া ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও অস্ট্রেলিয়ার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাই জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির এই সময়ে তাদেরও দেশীয় শিক্ষার্থীদের মতো পরিবহন সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন।
ইউনিভার্সিটিজ অস্ট্রেলিয়ার এই দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ধরনের শিক্ষার্থীর দৈনন্দিন ব্যয় কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে উচ্চ পরিবহন ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের চাপে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য এসব সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।



