আমেরিকান ভিসায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স: কোন ঠিকানা ব্যবহার করবেন?
মহিবুল ইসলাম মাসুম
প্রকাশিত: ২:৪৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬
আমেরিকান ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদনকারীদের একটি প্রশ্ন প্রায়ই করতে দেখা যায়—পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের জন্য কোন ঠিকানা ব্যবহার করতে হবে? বর্তমান ঠিকানা, নাকি স্থায়ী ঠিকানা? আবার দুই ঠিকানা থেকেই কি আলাদা পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে হবে? বিষয়টি নিয়ে অনেক আবেদনকারী বিভ্রান্তিতে থাকেন। তাই বিষয়টি সহজভাবে জানা জরুরি।
প্রথমেই মনে রাখতে হবে, কোনো আবেদনকারী ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী হলে তার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়।
এখন আসা যাক ঠিকানার বিষয়ে। ধরুন, আপনার পাসপোর্টে একটি স্থায়ী ঠিকানা দেওয়া আছে। কিন্তু বর্তমানে আপনি সেই ঠিকানায় থাকেন না। সে ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের আবেদনে আপনি বর্তমানে যে ঠিকানায় বসবাস করছেন, সেই ঠিকানা দিতে পারেন। পাশাপাশি স্থায়ী ঠিকানার ঘরে পাসপোর্টে উল্লেখ থাকা স্থায়ী ঠিকানা দেওয়া যেতে পারে।
আবার ধরুন, পাসপোর্ট করার সময় আপনি যে বর্তমান ঠিকানা দিয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে সেই বাসা পরিবর্তন করে অন্য জায়গায় চলে গেছেন। সে ক্ষেত্রে বর্তমানে আপনি যে ঠিকানায় বসবাস করছেন, সেই ঠিকানা অনুযায়ী পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নেওয়া উচিত।
তবে জটিলতা তৈরি হতে পারে তখন, যখন একজন আবেদনকারীর বিভিন্ন নথিতে বিভিন্ন ঠিকানা থাকে। যেমন—DS-160 ফরমে এক ঠিকানা, পাসপোর্টে অন্য ঠিকানা, জন্মনিবন্ধনে আরেক ঠিকানা এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে ভিন্ন ঠিকানা। এ ধরনের একাধিক ঠিকানা থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ নথিগুলোর মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকলে ভিসা প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই আপনার নথিতে ঠিকানার ক্ষেত্রে জটিলতা থাকলে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
তবে সাধারণভাবে বলা যায়, পাসপোর্টে থাকা স্থায়ী ঠিকানা এবং বর্তমানে বসবাসের ঠিকানা এক না হলেও সেটিই যে সমস্যা হবে, এমন নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রতিটি ফরম ও নথিতে আপনার প্রকৃত তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ করা। শুধু তথ্য মেলানোর জন্য কোনো নথিতে ভুল ঠিকানা দেওয়া উচিত নয়। বর্তমানে যেখানে বসবাস করছেন, সেই তথ্য এবং আপনার প্রকৃত স্থায়ী ঠিকানা যথাযথভাবে উল্লেখ করতে হবে।
আমেরিকান ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুতের সময় তাই নিজের সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করুন। বিশেষ করে DS-160, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে থাকা তথ্যের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য থাকলে আগে থেকেই সেটি শনাক্ত করা জরুরি। কারণ ভিসা প্রক্রিয়ায় একটি ছোট তথ্যের অসামঞ্জস্যও পরবর্তী সময়ে বড় প্রশ্নের কারণ হতে পারে।
সম্পাদক, ডেল্টা টিভি
সাবেক ইমিগ্রেশন ভিসা টিম লিডার, আমেরিকান দূতাবাস ঢাকা



