স্বস্তি দিতে গিয়ে অস্বস্তিতে সৌদি আরব, প্রশ্ন নিরাপত্তা নিয়ে

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:১৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২৬

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত এক সপ্তাহে চারটি হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী। এসব হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। অথচ হামলার কিছুদিন আগেই সামরিক হামলার আগাম জনসতর্কবার্তা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ।

বিমানবন্দরে হামলার আগে কেন জনসাধারণকে সতর্ক করা হয়নি, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি সৌদি সরকার। এতে দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং নাগরিক ও দর্শনার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চারজন পশ্চিমা ও আরব কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, সতর্কবার্তা না দেওয়া বা এ বিষয়ে নীরব থাকার পেছনে জনজীবন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা থাকতে পারে।

সামরিক অভিযান ও জনআস্থার দ্বন্দ্ব

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সৌদি শিক্ষাবিদ ও মিডল ইস্ট পলিসি কাউন্সিল থিঙ্ক ট্যাংকের জ্যেষ্ঠ আবাসিক ফেলো সুলতান আল-আমের বলেন, সৌদি সরকার একই সঙ্গে দুটি লক্ষ্য অর্জন করতে চায়। একদিকে সামরিক অভিযান চালানো, অন্যদিকে দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা ধরে রাখা।

সতর্কবার্তা বন্ধের কারণ কী

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সিভিল ডিফেন্স সংস্থা জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা, উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমের পাশাপাশি আগাম সতর্কবার্তা জারি করে থাকে। তবে সাম্প্রতিক হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি কেন, সে বিষয়ে ইমেইলে পাঠানো প্রশ্নের জবাব দেয়নি সংস্থাটি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

দুইজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, গত সপ্তাহে বিমানবন্দরে হামলার আগে সৌদি আরবের এক মিত্র পশ্চিমা সরকারের কর্মকর্তারা সতর্কবার্তা বন্ধের কারণ জানতে চেয়েছিলেন।

ওই কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সতর্কবার্তাগুলো দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটাচ্ছিল। রাতে সতর্কবার্তার শব্দে ঘুম ভেঙে যাওয়ায় অনেক নাগরিক অভিযোগও করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে যোগাযোগ করা হলে সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো কোনো সাড়া দেয়নি।

স্বাভাবিকতা বজায় রাখার চেষ্টায় উল্টো উদ্বেগ

সৌদি আরবে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‍্যাটনি বলেন, হামলার বিষয়ে জনগণকে অবহিত রাখা এবং দেশে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করেছিল রিয়াদ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত মানুষের অস্বস্তি ও আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

র‍্যাটনির মতে, হুতিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া সৌদি আরবের জন্য জরুরি। একই সঙ্গে দেশটি চায় না, সামরিক সংঘাতের কারণে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি হোক। সতর্কবার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই দ্বন্দ্বের প্রতিফলন রয়েছে। তবে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে আগাম সতর্কতা না দেওয়ায় সেই উদ্বেগই আরও বাড়ছে, যা এড়াতে চেয়েছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ।