কঙ্গো সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী জোট গড়লেন সাবেক প্রেসিডেন্ট কাবিলা

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:০৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২৬

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) বর্তমান সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্য নিয়ে নতুন রাজনৈতিক ও সামরিক জোট গঠন করেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাবিলা। ফ্রন্ট ফর দ্য রিফাউন্ডেশন অব দ্য নেশন (এফআরএন) নামের এই জোটে রয়েছে এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন পক্ষ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) পূর্বাঞ্চলীয় শহর গোমায় কাবিলার বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন জোটের ঘোষণা দেওয়া হয়। জোটের নেতারা জানিয়েছেন, দেশটিতে যাকে তাঁরা ‘স্বৈরশাসন’ বলে অভিহিত করছেন, তার অবসান ঘটাতে বিভিন্ন প্রতিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করাই তাঁদের লক্ষ্য। এ জন্য শক্তি প্রয়োগসহ সব ধরনের উপায় অবলম্বনের কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

জোটে এম২৩ নেতারাও

পূর্বাঞ্চলীয় ডিআর কঙ্গোর গুরুত্বপূর্ণ শহর গোমা ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এম২৩ বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন জোটে এম২৩ এবং এর রাজনৈতিক মিত্রদের অন্তর্ভুক্তি কাবিলার বিদ্রোহী তৎপরতায় সরাসরি সম্পৃক্ততার স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জোটের নেতৃত্বে থাকবেন কাবিলা। এএফসি-এম২৩ জোটের নেতা কর্নেইল নাঙ্গা নতুন জোটের চার উপপ্রধানের একজন হয়েছেন। এম২৩-এর সামরিক নেতা সুলতানি মাকেঙ্গাকে জোটের চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে এম২৩ বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন কাবিলা। গত বছর রাষ্ট্রদ্রোহসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়। তবে কাবিলা অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সরকারের বিরুদ্ধে কাবিলার অভিযোগ

নতুন জোট গঠনের কয়েক দিন আগে দেওয়া এক ভাষণে কাবিলা বলেছিলেন, দেশকে ‘উদ্ধার’ করতে জনগণের কী করা উচিত, তা তিনি তুলে ধরবেন। প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদির সরকারের বিরুদ্ধে গত বছর দেওয়া তাঁর প্রস্তাবগুলো উপেক্ষা করার অভিযোগও তোলেন তিনি। ওই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে পূর্বাঞ্চলের সংঘাত নিরসনের উদ্যোগ ছিল।

কাবিলার অভিযোগ, সরকার সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা দুর্বল করছে, অর্থনীতি পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পারছে না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সামরিক কর্মকর্তাদের নির্বিচারে গ্রেপ্তারের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। এসব অভিযোগের বিষয়ে কঙ্গো সরকার এখনো প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

দীর্ঘদিনের সংঘাতে অস্থিতিশীল পূর্বাঞ্চল

৫৫ বছর বয়সী কাবিলা ২০০১ সাল থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ডিআর কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বিতর্কিত নির্বাচনের পর তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে ফেলিক্স শিসেকেদি ক্ষমতা গ্রহণ করেন। কয়েক বছর জনসমক্ষে কম উপস্থিত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে শিসেকেদির সরকারের সমালোচনা বাড়িয়েছেন কাবিলা।

দীর্ঘদিন ধরে ডিআর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে জাতিগত উত্তেজনা, রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত চলছে। সেখানে শতাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে।

শিসেকেদির দ্বিতীয় মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা। তবে সংঘাতের কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এদিকে প্রেসিডেন্টের দুই মেয়াদের সীমা তুলে দেওয়ার সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়েও দেশটিতে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।