‘নিয়ম লঙ্ঘনের’ অভিযোগে আফগানিস্তানে বিবিসির সম্প্রচার স্থগিত
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:১০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২৬
‘বারবার নিয়ম লঙ্ঘনের’ অভিযোগে আফগানিস্তানের বিভিন্ন এফএম রেডিও কেন্দ্র থেকে বিবিসির সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে তালেবান সরকার। দেশটির তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আপাতত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খুবাইব ঘুফরান স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, বিবিসি বারবার কিছু নিয়ম লঙ্ঘন করায় দেশজুড়ে তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবিসির প্রতিক্রিয়া
এক বিবৃতিতে বিবিসি জানিয়েছে, আফগানিস্তানের লাখো মানুষ নির্ভরযোগ্য সংবাদ ও তথ্যের জন্য তাদের ওপর নির্ভর করেন। পরিস্থিতি সমাধানে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
বিবিসি আরও জানিয়েছে, আফগান শ্রোতাদের জন্য পশতু, দারি ও ইংরেজি ভাষায় নিরপেক্ষ ও স্বাধীন সংবাদ পরিবেশন অব্যাহত রয়েছে। স্বল্পতরঙ্গ ও মধ্যম তরঙ্গের রেডিও, অনলাইন এবং স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এসব অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হচ্ছে।
লাখো মানুষের তথ্যপ্রাপ্তিতে প্রভাব
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ২০ শতাংশের বেশি মানুষ প্রতি সপ্তাহে তাদের সংবাদ ও অন্যান্য অনুষ্ঠান শোনেন। এর মধ্যে মেয়েদের জন্য শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানও রয়েছে।
তালেবান সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে আফগানিস্তানে মেয়েরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে বিবিসির শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান দেশটির শ্রোতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ
১৯৮১ সালে আফগানিস্তানে কার্যক্রম শুরু করে বিবিসি। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সংবাদমাধ্যমকে দেশটিতে কার্যক্রম চালাতে নিষেধ করার পর থেকে বিবিসিই সেখানে সম্প্রচার চালানো একমাত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা পুনর্দখলের পর থেকে আফগানিস্তানের গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সম্প্রচারে সংগীত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। টেলিভিশন পর্দায় নারীদের উপস্থিতিও কমেছে। বর্তমানে নারী ও পুরুষকে একসঙ্গে সংবাদ বা অনুষ্ঠানে দেখা যায় না।
দেশটির কিছু মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারলেও বিদ্যুৎ-সংকট, ইন্টারনেট ও যোগাযোগের উচ্চ ব্যয় এবং স্বল্প সাক্ষরতার হার তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।



