বছর শেষেই ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করতে চায় কানাডা

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৬:৪৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে কানাডা। আমেরিকার ওপর বাণিজ্যিক নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি নতুন বাজার তৈরির লক্ষ্যে দেশটি এ পদক্ষেপ নিচ্ছে। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ভারতের সঙ্গে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনিতা আনন্দ বলেন, ভারতের সঙ্গে চুক্তি কানাডার বাণিজ্য বহুমুখীকরণ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীনসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায় অটোয়া। তবে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমেরিকার সঙ্গে সহযোগিতাও বজায় রাখতে চায় দেশটি।

বাণিজ্য বহুমুখীকরণে জোর

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী ১০ বছরে আমেরিকার বাইরে অন্যান্য দেশের সঙ্গে কানাডার বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কোনো একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চলতি মাসের শেষ দিকে কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বিদ্যমান ব্যাপক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তির (সিইটিএ) ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় কানাডা।

এ ছাড়া গত বছর ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে দেশটি। ২০২৬ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সঙ্গেও চুক্তি করার লক্ষ্য রয়েছে কানাডার।

অনিতা আনন্দের তথ্য অনুযায়ী, কানাডা ইতিমধ্যে ৫১টি দেশের প্রায় ১৫০ কোটি ভোক্তাকে অন্তর্ভুক্ত করে এমন ১৫টি বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন করেছে।

ভারতের সঙ্গে আলোচনা এগোচ্ছে

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ভারতের বাণিজ্য আলোচকেরা কানাডা সফর করেছেন। অন্যদিকে, কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী মানিন্দর সিধু একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল নিয়ে বর্তমানে ভারতে রয়েছেন।

অনিতা আনন্দ জানান, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা করেছেন। আগামী ডিসেম্বরে মোদির কানাডা সফরের কথা রয়েছে।

২০৩০ সালে বাণিজ্য ৭ হাজার কোটি ডলারের লক্ষ্য

কানাডার হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত চুক্তি কার্যকর হলে ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের পণ্য ও সেবাবাণিজ্যের পরিমাণ বছরে ৭ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৫ সালে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪০ কোটি ডলার।

২০২৫ সালে ভারতের সঙ্গে কানাডার পণ্যবাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৯০ কোটি ডলার। ২০২৪ সালের তুলনায় ভারতে কানাডার রপ্তানি কমেছে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ। বিপরীতে, ভারত থেকে কানাডার আমদানি বেড়েছে ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে কানাডার কোম্পানি কামেকো ও ভারতের মধ্যে চলতি বছরের শুরুতে স্বাক্ষরিত ২৬০ কোটি কানাডীয় ডলারের ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তির কথা উল্লেখ করেন অনিতা আনন্দ।

এ ছাড়া কানাডার ফেয়ারফ্যাক্স ফাইন্যানশিয়াল হোল্ডিংস ভারতের আইডিবিআই ব্যাংকের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা কেনার চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। ৫২ হাজার ৮৭৮ কোটি রুপির এ লেনদেন ভারতের অন্যতম বৃহৎ আন্তসীমান্ত ব্যাংক অধিগ্রহণের ঘটনা হতে যাচ্ছে।

কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা

২০২৩ সালে কানাডায় শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ভারত ও কানাডার মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধ দেখা দেয়। এরপর দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া ধীরে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন অনিতা আনন্দ।

তিনি বলেন, সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনের শাসনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি এসব বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে এগোতে চায় কানাডা।