সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রাজনাথ সিংয়ের

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৬:৩৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২৬

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনার আদলে অরাজকতা সৃষ্টি করে সরকার বদলাতে চান।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) লখনৌয়ে বিরোধীদের সমালোচনা করে রাজনাথ সিং বলেন, ‘কেউ প্রকাশ্যে বাংলাদেশকে অনুসরণ করার কথা বলছেন। কেউ সরকার বদলের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করছেন। তাঁদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার। তাঁরা অরাজকতা তৈরি করে সরকার বদল করতে চান, ঠিক যেমনটা হয়েছে বাংলাদেশে।’

তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণদের বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে। কেউ কেউ বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনার আদলে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

রাজনাথ সিংয়ের ভাষ্য, আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য নির্বাচনী সংস্কার বা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে নয়; বরং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দেশে অশান্তি সৃষ্টি এবং ক্ষমতা দখল করা।

এদিন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই শীর্ষ নেতার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ টানেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

রাহুল গান্ধীর অভিযোগের সমালোচনা

ভোটার তালিকা নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগেরও সমালোচনা করেন রাজনাথ সিং। তিনি দাবি করেন, রাহুল গান্ধী বিভিন্ন সময়ে ভোটারদের বয়স ও পরিচয় নিয়ে অসংগতিপূর্ণ অভিযোগ করেছেন এবং সাধারণ নাগরিকদের ভুয়া ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁদের সম্মানহানির চেষ্টা করেছেন।

উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সমাজবাদী পার্টির সমর্থন ছাড়া রায়বরেলিতে রাহুল গান্ধীর আসন জয়ের সক্ষমতা নিয়েও কটাক্ষ করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

রাজনাথ সিং বলেন, বিজেপি কখনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি কিংবা নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেনি। দেশের মানুষ, সংবিধান ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাঁর দল সব সময় সর্বোচ্চ সম্মান দিয়ে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ

ভারতে চলমান আন্দোলনকে বাংলাদেশ ও নেপালে সরকার পরিবর্তনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে আসছেন বিজেপির সমর্থকদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, একই ধরনের প্রক্রিয়ায় ভারতে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে।

এদিকে আন্দোলনের আলোচিত মুখ নেহা বোরা বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চালানোর কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়।

পরে প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ নেহা বোরা ও সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের উপস্থিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবর্তন চান। তাঁর এই বক্তব্যও চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।