সৌদির টাইফুন যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি হুতিদের

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৬:৩৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২৬

ভূমি থেকে হামলা চালিয়ে সৌদি আরবের একটি ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। হুতি-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষেপণাস্ত্রের মতো একটি বস্তু যুদ্ধবিমানটির দিকে ছুটে যাওয়ার পর সেখানে আগুনের ঝলক দেখা যায়। তবে বিমানটি সত্যিই ধ্বংস হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন একজন সামরিক বিশ্লেষক।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।

ব্রিটেন দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের কাছে ইউরোফাইটার টাইফুনসহ বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান বিক্রি করে আসছে। দুই দেশের অস্ত্র বাণিজ্যের অংশ হিসেবে ‘প্রজেক্ট সালাম’ চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের কাছে ৭২টি টাইফুন যুদ্ধবিমান বিক্রি করা হয়। চুক্তিটির মূল্য ছিল ৪৪৩ কোটি পাউন্ড।

মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবকে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে আসছে ব্রিটেন। হুতিদের দাবি সত্য প্রমাণিত হলে, ইরানের সরবরাহ করা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার আঘাতে টাইফুন যুদ্ধবিমান ধ্বংসের ঘটনা বিরল নজির হয়ে উঠতে পারে।

ভিডিও নিয়ে সংশয় বিশ্লেষকের

লন্ডনের ব্রুনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ প্রভাষক স্টিভেন ওয়াগনার বলেছেন, ভিডিওতে দেখা বিমানটিকে ইউরোফাইটার টাইফুন বলে মনে হচ্ছে। তবে সেটি ধ্বংস হয়েছে কি না, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।

দ্য টেলিগ্রাফকে তিনি বলেন, ভিডিওর শুরুর অংশ ছাড়া সরাসরি বা গুরুতর কোনো আঘাতের বিষয়টি তাঁর নজরে আসেনি। শুরুর দিকের বিস্ফোরণটি অবশ্য বিমানের কাছাকাছি হয়েছে বলে মনে হয়েছে। তাঁর মতে, পাইলট আঘাত এড়াতে কার্যকর কৌশল নিয়েছেন এবং ফ্লেয়ার ব্যবহার করেছেন।

ওয়াগনারের ধারণা, হামলায় ইরানের তৈরি একটি প্রচলিত ভ্রাম্যমাণ ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। এ ধরনের ব্যবস্থা অতর্কিত হামলার মাধ্যমে টাইফুনের মতো চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানকেও বিপদে ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, এফ-৩৫-এর মতো আরও উন্নত যুদ্ধবিমান এ ধরনের হামলার বিরুদ্ধে কিছুটা বেশি সুরক্ষিত হলেও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। তবে একটি যুদ্ধবিমান হারানোর ঘটনাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া ঠিক হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

বিশ্লেষকটির মতে, এ ঘটনা থেকে সৌদি আরবের আত্মরক্ষার সক্ষমতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। একই কৌশল বারবার ব্যবহার করা হলে প্রতিপক্ষও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেবে, ফলে হামলার কার্যকারিতা কমে আসতে পারে।

ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হওয়ার আশঙ্কা

এদিকে ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে লড়াই তীব্র হচ্ছে। সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে সাউদার্ন জায়ান্টস ব্রিগেডও রয়েছে। উত্তেজনার মধ্যে হুতিরা দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের কেন্দ্রস্থল আল-মাশিক প্রেসিডেন্ট ভবন লক্ষ্য করে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, ওই হামলায় দুই নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা অক্ষত রয়েছেন। কর্মকর্তারা হামলাটিকে গুপ্তহত্যার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এ পরিস্থিতিতে ইয়েমেনে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে সৌদি আরবের বাইরের শক্তিগুলোও জড়িয়ে পড়তে পারে। সৌদি আরব অন্য মুসলিম দেশ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি এই লড়াইয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে আসছে। দেশটি হুতিদের বৈশ্বিক নৌপরিবহনের জন্য হুমকি হিসেবেও চিহ্নিত করছে।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারে সম্প্রতি মক্কা ও মদিনার পবিত্র আকাশসীমা ছাড়া সৌদি আরবের অধিকাংশ আকাশসীমা ও বিমানবন্দরকে ‘অনিরাপদ’ ঘোষণা করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি অভিযোগ করেন, আঞ্চলিক পক্ষগুলোর সহায়তায় হুতিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আক্রমণকারী ড্রোন এবং বিস্ফোরকবোঝাই দ্রুতগতির নৌযান ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জন করেছে।