পেঁয়াজের বাজারে সিন্ডিকেট, ফিলিপাইনে রেকর্ড জরিমানা
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৬:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২৬
পেঁয়াজের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়াতে সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগে ফিলিপাইনে ছয়টি কোম্পানিকে ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন পেসো বা প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় জরিমানার পরিমাণ প্রায় ৩৫৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফিলিপাইন কম্পিটিশন কমিশন (পিসিসি) গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) জানায়, ২০১৬ সালে কমিশনটি প্রতিষ্ঠার পর এটাই তাদের আরোপ করা সবচেয়ে বড় অঙ্কের জরিমানা। পেঁয়াজ আমদানি, সংরক্ষণ ও পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
২০২২ সালে ফিলিপাইনে পেঁয়াজের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায়। সে সময় প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়ে ৮০০ পেসোতে দাঁড়িয়েছিল, যা তখনকার হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৩৬৬ টাকা। দামটি দেশটির দৈনিক ন্যূনতম মজুরি এবং মাংসের দামকেও ছাড়িয়ে যায়।
পেঁয়াজের এই সংকট তৎকালীন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি খাদ্যপণ্যের বাড়তি দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
২০২২ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৩ সালের শুরুর দিকে কয়েক মাস ধরে রেস্তোরাঁর মেনু থেকেও পেঁয়াজ বাদ দিতে হয়েছিল। পণ্যটির সংকট এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে, এটি চোরাচালানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এমনকি একবার বিয়ের তোড়াতেও পেঁয়াজ ব্যবহারের ঘটনা ঘটে।
সংকট মোকাবিলায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেয়। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট মার্কোস ঘাটতির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
আমদানি ও বাজার নিয়ন্ত্রণে যোগসাজশ
পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে গঠিত একটি সংসদীয় কমিটি জানায়, পণ্যটির দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর পেছনে একটি সিন্ডিকেট কাজ করেছে।
পিসিসির ভাষ্য অনুযায়ী, কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে পাওয়া প্রমাণে দেখা গেছে, ২০২০ ও ২০২১ সালে পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদিত মোট ছাড়পত্রের প্রায় ৫০ শতাংশ সম্মিলিতভাবে ওই ছয়টি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
কমিশন আরও জানায়, প্রতিষ্ঠানগুলো পেঁয়াজ আমদানি, কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ এবং পাইকারি বিতরণের ক্ষেত্রে অবৈধভাবে বাজার ভাগাভাগির পরিকল্পনায় জড়িত ছিল।
পিসিসি বলেছে, এ জরিমানার মাধ্যমে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ভোক্তাদের সুরক্ষার অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচারও হতে পারে।
২০২৩ সালের শেষ দিকে স্থানীয়ভাবে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন বাজারে আসার পর সরবরাহ বাড়ে এবং দাম স্থিতিশীল হতে শুরু করে। এতে সংকটের অবসান ঘটে।



