তিন ধাপে দেশে ফিরলেন ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার হওয়া ৫৮ বাংলাদেশি

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:৫৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২৬

মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে উদ্ধার হওয়া আরও ৪১ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার মিশরের পোর্টসাইদ থেকে তাঁদের প্রত্যাবাসন করা হয়। এ নিয়ে তিন ধাপে মোট ৫৮ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হলো।

মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে গত ৪ অক্টোবর ছয়জন এবং ৬ অক্টোবর ১১ জনকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। সর্বশেষ ৪১ জনের প্রত্যাবাসনের মধ্য দিয়ে উদ্ধার হওয়া ৫৮ বাংলাদেশির দেশে ফেরা সম্পন্ন হয়েছে।

দূতাবাস জানায়, এসব বাংলাদেশি লিবিয়ার তবরুক থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অনিয়মিতভাবে ইউরোপে প্রবেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন। সমুদ্রে বিপদাপন্ন অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে মিশরের পোর্টসাইদে নিয়ে যাওয়া হয়।

উদ্ধার হওয়া ৫৮ জনের মধ্যে ৫৫ জনকে ‘কিংস্টন’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং বাকি তিনজনকে ‘এমএসসি ভার্জিনিয়া’ নামের আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজ উদ্ধার করে।

উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের অবস্থা, সমুদ্রযাত্রা ও উদ্ধারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ও কনস্যুলার সহায়তা দিতে গত ৩ অক্টোবর পোর্টসাইদ কারাগার পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

দূতাবাসের উদ্যোগে মিশরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) অর্থায়নে বিমান টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়। পরে তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইউরোপযাত্রা

উন্নত জীবনের আশায় মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে অনেক বাংলাদেশি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ ধরনের যাত্রায় অনিরাপদ নৌযান, উত্তাল সমুদ্র, খাবার ও পানির সংকট এবং পাচারকারীদের প্রতারণার কারণে প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে।

বাংলাদেশ দূতাবাস ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অনিয়মিত পথে ইউরোপে প্রবেশের ঝুঁকি সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে মানবপাচারকারী ও অবৈধ অভিবাসনে সহায়তাকারী চক্রের প্রলোভন থেকে নাগরিকদের দূরে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং নিয়োগকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করা জরুরি। এতে মানবপাচার ও প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।