প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে যাচ্ছে থাইল্যান্ড

কৃষি ও নির্মাণ খাতে নিয়োগের পরিকল্পনা, ২০২৭ সালের শুরুতে প্রক্রিয়া শুরুর আশা

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:৫৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২৬

কৃষি ও নির্মাণ খাতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে থাইল্যান্ড। দেশটির শ্রমবাজারে নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নতুন একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এশিয়া পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৩ অক্টোবর থাইল্যান্ডের শ্রম নীতিবিষয়ক হালনাগাদ তথ্যে নতুন তিনটি দেশ থেকে কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনার বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে এ বিষয়ে নিয়োগের নির্দিষ্ট কোটা ও বিস্তারিত সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

কেন কর্মী নিতে চায় থাইল্যান্ড

থাইল্যান্ডের অর্থনীতিতে কৃষি ও নির্মাণ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এ দুটি খাতে শ্রমিক সংকটের কারণে উৎপাদন ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রচলিত শ্রমবাজারের বাইরে নতুন দেশ থেকে কর্মী নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি।

বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার মাধ্যমে শ্রমিকের উৎস বাড়াতে চায় থাইল্যান্ড। এর ফলে দেশটির বিভিন্ন খাতে প্রয়োজনীয় জনবল সরবরাহ সহজ হতে পারে।

কবে শুরু হতে পারে নিয়োগ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনটি দেশ থেকে কতজন কর্মী নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সংখ্যা ঘোষণা করা হয়নি। তবে নিয়োগের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে শ্রীলঙ্কা থেকে প্রথম দফার কর্মীরা থাইল্যান্ডে যেতে পারেন। এরপর বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

তবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ, আবেদনপদ্ধতি, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা

থাইল্যান্ডের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কৃষি ও নির্মাণ খাতে অভিজ্ঞ এবং দক্ষ কর্মীরা এ সুযোগের আওতায় আসতে পারেন।

তবে নিয়োগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া, কর্মী নির্বাচনের যোগ্যতা, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশের পরই কর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

এ ছাড়া সরকারি অনুমোদিত নিয়োগপ্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আগাম অর্থ লেনদেনের আগে তাদের বৈধতা যাচাই করা জরুরি।

থাইল্যান্ডের পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের বাজারে নতুন একটি গন্তব্য যুক্ত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কর্মী নিয়োগের সময়সূচি ও সুযোগ সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।