শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর পানামায় ৭৪৬ বার কম্পন

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৬:৪৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২৬

গত সপ্তাহে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর মধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় ৭৪৬টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। ভূমিকম্পের প্রভাবে দেশটির প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে ভূপ্রকৃতির পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন বিজ্ঞানীরা।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, পানামা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব জিওসায়েন্সেসের পরিচালক নেস্টর লুক বলেছেন, তাত্ত্বিক ধারণা ও ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, এ মাত্রার ভূমিকম্পের পর এক থেকে দুই মাস পর্যন্ত আফটারশক হতে পারে।

লুক জানান, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটারেরও কম গভীরে। এর ফলে নির্গত শক্তির প্রভাবে ভূত্বকের টেকটোনিক ব্লকগুলোতে পুনর্বিন্যাস চলছে। তবে ভূকম্পন-সংক্রান্ত রেকর্ড অনুযায়ী, আফটারশকগুলোর মাত্রা ধীরে ধীরে কমছে।

তিনি আরও বলেন, চিরিকি ও বোকাস দেল তোরো এলাকায় রেকর্ড করা ভূমিকম্পগুলো পৃথক ফল্ট বা ভূচ্যুতি ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে সেগুলো ৯ অক্টোবরের ভূমিকম্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না-ও হতে পারে।

এদিকে, পানামার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে ভূপ্রকৃতির পরিবর্তনের খবরও পরীক্ষা করছেন গবেষকেরা। স্থানীয় বাসিন্দারা কয়েকটি এলাকায় সমুদ্রের পানি সরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়া এবং আগে পানির নিচে থাকা পাথর উন্মুক্ত হয়ে পড়ার কথা জানিয়েছেন।

লুকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভূচ্যুতির কারণে উপকূলীয় ভূমি উঁচু বা নিচু হয়ে যেতে পারে। এতে ভূ-পৃষ্ঠের আকৃতিতে পরিবর্তন আসে। এসব পরিবর্তনের পেছনে ভূচ্যুতির ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নির্ধারণে ভূতত্ত্ববিদেরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করবেন।

গত ৯ অক্টোবরের শক্তিশালী ভূমিকম্পে পানামার বিভিন্ন এলাকায় ভবন ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির জাতীয় নাগরিক সুরক্ষা ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ লাখ মানুষের দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়।

প্রায় এক মিনিট স্থায়ী হওয়া এই কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী পানামা সিটিতেও। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শহরটির উঁচু ভবনগুলো থেকে লোকজন দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন।