লিবিয়ায় অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ইইউর নতুন অর্থায়ন

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:২১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২৬

লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে অতিরিক্ত ২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো অর্থায়ন করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ অর্থ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান এবং মানবপাচারবিরোধী কার্যক্রমে সহায়তায় ব্যবহার করা হবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লায়েনের একটি চিঠির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে অভিবাসনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইনফোমাইগ্রেন্টস। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে ইইউর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ অর্থায়ন করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগকে সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতারের নিয়ন্ত্রণাধীন পূর্ব লিবিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইইউর ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার আরেকটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দুই প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে লিবিয়া

লিবিয়া বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে বিভক্ত। পশ্চিমাঞ্চলের রাজধানী ত্রিপোলিভিত্তিক জাতীয় ঐক্য সরকারকে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিয়েছে। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলে খলিফা হাফতারের নিয়ন্ত্রণাধীন বাহিনী এবং বেনগাজিভিত্তিক প্রশাসন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

দীর্ঘদিন ধরে ইইউ ও এর সদস্য দেশগুলো লিবিয়ার কোস্টগার্ডকে সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীদের যাত্রা ঠেকাতে কাজ করে এই বাহিনী। আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ ত্রিপোলিভিত্তিক সরকারকে স্বীকৃতি দিলেও গত বছর থেকে পূর্ব লিবিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে।

ইনফোমাইগ্রেন্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাফতারের নিয়ন্ত্রণাধীন পূর্ব লিবিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে ইউরোপের উদ্দেশে অভিবাসীদের যাত্রা বেড়েছে। এর আগে গত জুলাইয়ে ইইউ পূর্বাঞ্চলের বেনগাজি শহরে একটি সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিল। নতুন অর্থায়নকে ওই অঞ্চলের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অনিয়মিত অভিবাসন কমাতে উদ্যোগ

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লায়েন তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, ‘ইইউতে অনিয়মিতভাবে প্রবেশের জন্য যাত্রা শুরুর প্রধান দেশ এখনো লিবিয়া।’

তিনি বলেন, ইইউ ও লিবিয়ার মধ্যে আসন্ন বৈঠকের লক্ষ্য দুই পক্ষের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে কাজ করে লিবিয়া থেকে অভিবাসীদের নিজ নিজ দেশে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনেও সহায়তা করছে ইইউ।

ফন ডেয়ার লায়েন আরও বলেন, যেসব অভিবাসী শুধু ইইউতে অনিয়মিতভাবে প্রবেশের উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় আসছেন, তাঁদের সংখ্যা কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ইউরোপগামী অভিবাসনের গুরুত্বপূর্ণ রুট লিবিয়া

২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত আন্দোলনে দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া আফ্রিকা থেকে ইউরোপগামী অনিয়মিত অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান যাত্রাপথে পরিণত হয়েছে।

এরপর দেশটি বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী, সশস্ত্র মিলিশিয়া ও প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে বিভক্ত হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে লিবিয়ায় থাকা অভিবাসী, আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের পরিস্থিতিও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

ইইউর নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে পূর্ব লিবিয়ায় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, উদ্ধার কার্যক্রম ও মানবপাচারবিরোধী তৎপরতা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।