আমেরিকায় ডিজেলের দাম বছরে বেড়েছে ৭০ শতাংশের বেশি

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৬:৫২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা এবং বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আমেরিকার জ্বালানি বাজারেও। দেশটিতে ডিজেলের গড় দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭০ শতাংশের বেশি বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৬ দশমিক ৩৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছায়। চলতি বছরের মে মাসের পর এটি সর্বোচ্চ দাম। পরে কিছুটা কমে দিন শেষে ব্রেন্টের দাম দাঁড়ায় ১০৯ দশমিক ৮৬ ডলারে। আগের দিনের তুলনায় দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

এদিকে আমেরিকার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৪১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। চলতি সপ্তাহে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১০ শতাংশের বেশি এবং ব্রেন্টের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে।

অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দেশটিতে ডিজেলের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৬ দশমিক ৩৩ ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ দাম ৭০ শতাংশের বেশি। এতে দেশটির পরিবহন ও জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও ভূমিকা রাখছে। ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগারে হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় ইরানের হামলার কারণে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া কথিত ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ দ্রুত ভেঙে পড়েছে। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও রাশিয়া ইউক্রেনের অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত রেখেছে। এর জবাবে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে আবারও হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

আমেরিকায় অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার পেছনে দেশটির বাণিজ্যিক মজুদ কমে যাওয়ারও ভূমিকা রয়েছে। জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, হারিকেন ইসাইয়াসের কারণে উপসাগরীয় উপকূলে উৎপাদন বন্ধ থাকায় ৯ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির বাণিজ্যিক তেলের মজুদ ৮০ লাখ ব্যারেলের বেশি কমেছে। এতে বাজারে সরবরাহ নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে সৌদি আরবের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, লোহিত সাগরের ওপর দিয়ে ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে দেশটির বাহিনী। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র সৌদির ইয়ানবু তেল রপ্তানি টার্মিনালের দিকে যাচ্ছিল। এ ছাড়া রাজধানী রিয়াদ ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে তিনটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।

ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারা চলতি সপ্তাহে একাধিকবার সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার ধাহরানে সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়। এর আগে ১০ অক্টোবর রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব আমেরিকার ডিজেলের বাজারেও পড়ছে।