বেলজিয়ামে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৬:৫৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২৬

শিক্ষা সংস্কার, ব্যয় সংকোচন নীতি ও পুলিশের দমন-পীড়নের প্রতিবাদে বেলজিয়ামে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা। শনিবার রাজধানী ব্রাসেলসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্রাসেলসে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিবিএর বরাতে আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্রাসেলস-মিদি রেলস্টেশনের কাছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধক তৈরি করেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করেন। জবাবে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।

এর আগে শনিবার সকালে ব্রাসেলস সেন্ট্রাল স্টেশনের কাছে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি জড়ো হন। তাঁদের মধ্যে শিক্ষক ও ট্রেড ইউনিয়নকর্মীরাও ছিলেন। শুরুতে বিক্ষোভের অনুমতি না থাকলেও পরে তাঁদের ব্রাসেলস-মিদি স্টেশন অভিমুখে মিছিল করার অনুমতি দেওয়া হয়। এ সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং কয়েকজনকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দমন-পীড়ন ও কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। গত ৯ অক্টোবর দেশটির একটি ট্রেড ইউনিয়নের বিক্ষোভের পাশে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনার পর শনিবারের এ কর্মসূচি পালিত হয়।

এদিকে, দেশটির লিয়েজ শহরেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেলগা সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ২৫০ জন তরুণ লিয়েজ-গুইয়েমিনস রেলস্টেশনের বাইরে জড়ো হন। পরে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে শহরের কেন্দ্রের দিকে মিছিল করেন। এ কর্মসূচিতে শ্রমিক ও অভিভাবকেরাও অংশ নেন।

বিক্ষোভকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষা খাতে অর্থায়ন বাড়ানো, টিউশন ফি কমানো, গণপরিবহনের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন এবং সামাজিক বৈষম্য কমানো।

শিক্ষার্থীরা বলেন, আর্থিক চাপের কারণে অনেক তরুণকে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করতে হয়। এতে কারও কারও পক্ষে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। একপর্যায়ে তাঁদের কেউ কেউ পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

এ ছাড়া জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শনিবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রতিও সংহতি জানান কয়েকজন অংশগ্রহণকারী।