বাংলাদেশে ৩৯০ কোটি টাকা অনুদান দিচ্ছে কানাডা

কৃষি, ব্যবসা ও অর্থনৈতিক সংস্কারে চার উদ্যোগে ৪ কোটি ৫০ লাখ কানাডীয় ডলার সহায়তা

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৪২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২৬

বাংলাদেশে কৃষি উদ্ভাবন, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বেসরকারি খাতের অর্থায়ন বাড়াতে ৪ কোটি ৫০ লাখ কানাডীয় ডলার (প্রায় ৩৯০ কোটি টাকা) অনুদান ঘোষণা করেছে কানাডা। দেশটির আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাইয়ের বাংলাদেশ সফরকালে চারটি নতুন উদ্যোগে এ সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়।

রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকার কানাডীয় হাইকমিশনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই গত ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সফর করেন। এ সফরের উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারি আরও জোরদার করা এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের জন্য উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি করা।

চার উদ্যোগে বরাদ্দ

কানাডার ঘোষিত অনুদানের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ দেওয়া হচ্ছে কৃষি ও খাদ্য খাতে উদ্ভাবন এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে। চারটি উদ্যোগে অর্থ বরাদ্দের বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো—

বায়োএন্টারপ্রাইজ কানাডা: ১ কোটি ৮০ লাখ কানাডীয় ডলার। বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য খাতের সঙ্গে কানাডার কৃষি উদ্ভাবকদের সংযোগ স্থাপন এবং খাদ্যনিরাপত্তা বাড়াতে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।

কোওয়াটার ইন্টারন্যাশনাল: ১ কোটি ৮০ লাখ কানাডীয় ডলার। নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা সহজ করা, ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা এবং বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর কানাডাসহ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

বিশ্বব্যাংক: ৫০ লাখ কানাডীয় ডলার। অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সংস্কারে অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ এগিয়ে নিতে এ অর্থ দেওয়া হবে।

ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি): ৪০ লাখ কানাডীয় ডলার। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো এবং বেসরকারি খাতের বিকাশে সহায়তা করবে এ অর্থ।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

বাংলাদেশ সফরকালে রণদীপ সারাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকগুলোতে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, জ্বালানি ও জলবায়ু অর্থায়নে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে বাংলাদেশ, কানাডা ও অন্যান্য অংশীদারের যৌথ প্রচেষ্টার গুরুত্ব নিয়েও মতবিনিময় করেন তাঁরা।

দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য গবেষণায় সহায়তা

সফরকালে প্রতিমন্ত্রী সারাই ঢাকার আশকোনায় ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে কানাডার সহায়তায় তরুণ-তরুণী, বিশেষ করে নারীরা কীভাবে দক্ষতা অর্জন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছেন, সে বিষয়ে তাঁকে জানানো হয়।

কানাডা, ব্র্যাক ও অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে কানাডা এ কর্মসূচিতে ৪ কোটি ৪০ লাখ কানাডীয় ডলার সহায়তা দিয়েছে। গত পাঁচ বছর ধরে এ উদ্যোগ বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করছে।

ঢাকার আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) হাসপাতাল পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী কানাডার সহায়তায় পরিচালিত স্বাস্থ্য গবেষণা কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত হন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনায় কানাডা ১ কোটি ৫০ লাখ কানাডীয় ডলার অনুদান দিয়েছে। এ ছাড়া যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণায় সহায়তার জন্য দিয়েছে ২ কোটি ৪০ লাখ কানাডীয় ডলার।

রোহিঙ্গা সংকটে ৬০ কোটি ডলারের বেশি সহায়তা

কক্সবাজারে প্রতিমন্ত্রী সারাই রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। ২০১৮ সাল থেকে কানাডা ৬০ কোটি কানাডীয় ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে, যা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, দক্ষতা প্রশিক্ষণ এবং জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছে।

সফরকালে তিনি শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। তাঁদের আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ, কানাডা ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

কৃষি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহযোগিতা

কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের (সিমিট) একটি প্রদর্শনী কেন্দ্রও পরিদর্শন করেন কানাডার প্রতিমন্ত্রী। সেখানে গবেষণা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্যের চাহিদা পূরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে তাঁকে জানানো হয়।

বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে এবং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতে সিমিট বায়োএন্টারপ্রাইজ কানাডার সঙ্গে কাজ করবে।

এ ছাড়া ঢাকায় গিলডান অ্যাকটিভওয়্যার বাংলাদেশ লিমিটেড পরিদর্শন করেন সারাই। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে কানাডার অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগকারী। সেখানে উৎপাদন ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরিদর্শনকালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

কানাডীয় হাইকমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বাংলাদেশকে ৬৩০ কোটি কানাডীয় ডলারের বেশি উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৪০০ কোটি কানাডীয় ডলার ছাড়িয়েছে। দুই দেশের ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় নতুন অনুদান ঘোষণা করা হয়েছে।