ইশরাকের পদত্যাগের নির্দেশের খবর ‘ভিত্তিহীন’, প্রতিবাদ প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন খবরকে ‘অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে তাঁর দপ্তর। এ ধরনের খবরে বিভ্রান্ত না হতে গণমাধ্যম ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসাথে যেসব গণমাধ্যম এ খবর প্রকাশ করেছে, তাদের সংবাদ প্রত্যাহার করে সঠিক তথ্য তুলে ধরার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে এ বক্তব্য জানানো হয়।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ কিংবা তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে যে খবর প্রচারিত হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রতিমন্ত্রী তাঁর সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে পালন করছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাঁকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করা হয়।
একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল ও জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য এ ধরনের তথ্য ছড়াচ্ছে বলে প্রতিবাদলিপিতে অভিযোগ করা হয়েছে।
সম্প্রতি রাজধানীতে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নিয়েও বক্তব্য দিয়েছে প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর। প্রতিবাদলিপিতে দাবি করা হয়, আত্মরক্ষার্থে আইনসম্মতভাবে অস্ত্র প্রদর্শনের ওই ঘটনা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী আগেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর পদত্যাগের খবর প্রচারকে বেআইনি ও সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করা হয়। খবর প্রত্যাহার না করলে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এর আগে রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে খবর প্রকাশিত হয়। তবে এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুমটিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
তাঁর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে কয়েকজনকে ধরতে বলছেন তিনি। এ সময় তাঁর সাথে থাকা দেহরক্ষীরাও কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যান। ভিডিওতে একজনকে গুলি করার হুমকি দিতেও শোনা যায়। এ ছাড়া এক দেহরক্ষীকে এক তরুণকে লাথি মারতে দেখা যায়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীরা ব্যক্তিগত অস্ত্র হাতে কাউকে আটক করতে কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এদিকে, ঘটনাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে। রোববার ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, তদন্তে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



