তেলের বাজারে ত্রিমুখী যুদ্ধের উত্তাপ

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ২:২০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার হুমকি এবং রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা—এই তিন পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কায় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৯ দশমিক ৮৬ ডলারে দাঁড়ায়। এটি মে মাসের পর সর্বোচ্চ। একই দিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও বেড়েছে। নভেম্বর সরবরাহের ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৪১ ডলারে পৌঁছায়।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলা ও জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে সংঘাত বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর দ্রুত প্রভাব পড়ে।

একই সময়ে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কাও বাজারে চাপ তৈরি করেছে। সৌদি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ইয়ানবু তেল রপ্তানি টার্মিনালের দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। <

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আরও জটিল হয়েছে। ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারেও। অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে দেশটিতে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ছিল প্রায় ৬ দশমিক ৩৩ ডলার। এক বছর আগের তুলনায় এই দাম ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

ডিজেলের দাম বাড়লে পণ্য পরিবহন ও সরবরাহের খরচও বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এতে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা কার্যকরভাবে টেকেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকায় বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং জ্বালানি ব্যয় আরও বাড়তে পারে।