ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সহজ নয়, সামরিক শক্তি ও কূটনীতিতে নতুন কৌশল
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৮:৫৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ইরান অনির্দিষ্টকাল যুদ্ধ কিংবা প্রতিপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চায় না। বরং সামরিক শক্তি, কূটনীতি ও প্রতিরোধক্ষমতার সমন্বয়ে শত্রুপক্ষকে নিজেদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করতে চায় তেহরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এ কথা বলেছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার রাতে দেওয়া এক বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, ইরানকে প্রয়োজনে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করতে হবে, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করতে হবে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যকে রাজনৈতিক অর্জনে রূপ দিতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তুলতে আলোচনাও চালিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা লড়াইও করব, আলোচনাও করব। প্রয়োজন হলে সর্বশক্তি দিয়ে যুদ্ধ করতে হবে, প্রস্তুতি বাড়ানোর প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগাতে হবে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক বিজয় অর্জিত হলে সেটিকে রাজনৈতিক বিজয়ে রূপ দিয়ে সুসংহত করতে হবে। এর মাধ্যমে শত্রুর পরাজয়ের প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
গালিবাফের ভাষ্য, ইরানের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতার জন্য আমেরিকাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ওয়াশিংটনকে তার আচরণ পরিবর্তন করতে হবে এবং ইরানের জনগণের বৈধ দাবি মেনে নিতে হবে।
যুদ্ধ, আলোচনা ও প্রতিরোধের সমন্বয়
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বলেন, যুদ্ধ, আলোচনা ও শান্তির প্রচলিত ধারার পরিবর্তে তেহরান যুদ্ধ, আলোচনা ও প্রতিরোধের সমন্বয়ে একটি নতুন সমীকরণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
আমেরিকার সঙ্গে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেই দেশটি ভবিষ্যতে আবার ইরানে হামলা চালাবে না—এমন নিশ্চয়তা আছে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন গালিবাফ। তাঁর মতে, ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করে ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
আমেরিকার ইরানবিরোধী মনোভাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের আধিপত্যবাদী ও জবরদস্তিমূলক নীতি এ শত্রুতাকে উসকে দিচ্ছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির বক্তব্য উদ্ধৃত করে গালিবাফ বলেন, ‘তারা ইরানকে গ্রাস করতে এসেছে।’
তিনি জানান, গত জুনে আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক তৈরির সময় ইরান সেটিকে দুই ধাপে সাজিয়েছিল। কারণ, ওয়াশিংটন তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না, তা নিয়ে তেহরানের আস্থা ছিল না।
গালিবাফের দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশলগত সুবিধা অর্জনের কারণেই আমেরিকা সমঝোতা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল। ওই সমঝোতা ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ ও সম্পদও এনে দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সামরিক সক্ষমতা ও হরমুজ প্রণালি
ইরানের সামরিক শক্তি, আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার উন্নতির কথাও তুলে ধরেন গালিবাফ। তাঁর দাবি, আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার দুই দফার মধ্যবর্তী সময়ে ইরান এসব সক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতের দ্বিতীয় দফায় মার্কিন ড্রোন ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের ক্ষয়ক্ষতির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এসব ঘটনা ইরানের সামরিক সক্ষমতার প্রভাব তুলে ধরে।
প্রতিপক্ষকে হামলা থেকে বিরত রাখার উপাদান হিসেবে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় ঐক্য, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সহনশীলতা, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা এবং আঞ্চলিক ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ সক্ষমতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানের ওপর ইরাকের সাবেক শাসক সাদ্দাম হোসেনের চাপিয়ে দেওয়া আট বছরের যুদ্ধকে প্রতিরোধক্ষমতার গুরুত্বের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন গালিবাফ। তাঁর মতে, প্রতিরোধের লক্ষ্য হলো—কেউ যেন ইরানে হামলা চালানোর সাহস না পায়। কেউ এমন চিন্তা করলে তাকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং বুঝতে হবে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা সহজ নয়।



