ফ্রান্স থেকে স্পেন, আবাসন ও ব্যয় সংকটে ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভ

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ২:১৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০২৬

শিক্ষাব্যবস্থার সংকট, আবাসনসংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভে নেমেছেন তরুণ-তরুণীরা। ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইতালি, বেলজিয়াম ও আলবেনিয়ায় বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। দেশভেদে বিক্ষোভের কারণ আলাদা হলেও শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সাশ্রয়ী আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ এতে বড় ভূমিকা রাখছে। <Link url=”https://www.theguardian.com/world/2026/oct/18/europe-protests-france-spain-portugal-2026-explainer” title=”দ্য গার্ডিয়ান”/>।

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

ফ্রান্সে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয় সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে। শিক্ষকের সংকট, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ, অতিরিক্ত পাঠচাপ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ থেকে এ আন্দোলনের সূত্রপাত। পরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদেও সাধারণ মানুষ আন্দোলনে যোগ দেন।

অক্টোবরের মাঝামাঝি বিক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি স্থানে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। তবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী এবং সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের আলাদা করে দেখার ওপর জোর দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। <Link url=”https://www.lemonde.fr/en/france/article/2026/09/29/high-school-protests-spread-across-france-pitting-radical-left-against-government_6758067_7.html” title=”লে মঁদ”/>।

ফ্রান্সের শ্রমিক সংগঠন জেনারেল কনফেডারেশন অব লেবার (সিজিটি) বিক্ষোভকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। সংগঠনটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো, পেনশন বৃদ্ধি ও শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবি তুলেছে।

শিক্ষকসংকট মোকাবিলায় সরকার অতিরিক্ত অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধন ফি বাড়ানোর পরিকল্পনা বাতিলের কথাও জানিয়েছে।

স্পেনে আবাসনসংকট নিয়ে ক্ষোভ

স্পেনে বাড়িভাড়া ও আবাসনের দাম বৃদ্ধি বিক্ষোভের অন্যতম কারণ। গত সেপ্টেম্বরে এক বয়স্ক নারীকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করার ঘটনা আবাসনসংকট নিয়ে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়। তাঁর বাড়িভাড়া ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ, উচ্ছেদ বন্ধ এবং বিনিয়োগ তহবিলগুলোর আবাসন কেনার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়েছেন।

আবাসনসংক্রান্ত জরুরি ব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকার সংসদে বাধার মুখে পড়ে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থা পাস না হওয়ায় তিনি ২৯ নভেম্বর আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। আবাসনসংকট এখন দেশটির রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

পর্তুগাল ও ইতালিতেও বিক্ষোভ

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে আবাসনের উচ্চমূল্যের প্রতিবাদে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশটিতে আবাসনের দাম ১২৪ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইতালির মিলানেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। সেখানে একটি মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও শেষ দিকে কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন এবং ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেন।

বেলজিয়ামেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। এসব আন্দোলনে আবাসন, শিক্ষা ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সংকট গুরুত্ব পেয়েছে।

আলবেনিয়ায় দুর্নীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে ক্ষোভ

আলবেনিয়ায় প্রধানমন্ত্রী এডি রামার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দুর্নীতি, কর্মসংস্থানের অভাব ও শিক্ষার নিম্নমান নিয়ে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেই। দেশটিতে একটি বিলাসবহুল উপকূলীয় আবাসন প্রকল্প নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

আন্দোলনে কি পরিবর্তন আসছে?

বিক্ষোভের মুখে ফ্রান্সে শিক্ষকদের ঘাটতি মোকাবিলা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধন ফি বাড়ানোর পরিকল্পনাও বাতিল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় নির্দিষ্ট কিছু শিল্পের জন্য ভর্তুকি বাড়ানোর ঘোষণাও এসেছে।

স্পেনে আবাসনসংক্রান্ত জরুরি আইন পাসের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে আগাম নির্বাচন সামনে রেখে আবাসনসংকট রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে।

বিক্ষোভের ভবিষ্যৎ কী?

সরকারের পদক্ষেপে বিক্ষোভের তীব্রতা কমবে কি না, তা নির্ভর করছে শিক্ষা, আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয়সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে কতটা অগ্রগতি হয় তার ওপর। ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের দাবির পাশাপাশি শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অসন্তোষও আন্দোলনকে বিস্তৃত করেছে। স্পেনে আবাসনসংকট নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশের এই বিক্ষোভ দেখাচ্ছে, তরুণদের ভবিষ্যৎ, সাশ্রয়ী আবাসন, মানসম্মত শিক্ষা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্ন এখন জনঅসন্তোষের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠেছে।