প্রথমবার বিদেশ যাচ্ছেন? বিমানবন্দরে যা যা করতে হবে

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৩৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২৬

বিদেশ ভ্রমণ, চাকরি কিংবা উচ্চশিক্ষার জন্য প্রথমবার বিমানে যাত্রা করতে গেলে বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে অনেকের মধ্যেই দ্বিধা ও উদ্বেগ থাকে। তবে আগে থেকে প্রয়োজনীয় ধাপগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকলে পুরো প্রক্রিয়া সহজ হয়। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সাধারণত বিমান ছাড়ার অন্তত তিন ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিমানবন্দরে প্রবেশ

বিমানবন্দরের প্রবেশপথে প্রয়োজন অনুযায়ী পাসপোর্ট ও বিমান টিকিট দেখিয়ে টার্মিনালে প্রবেশ করতে হয়। ভেতরে ঢুকে ডিসপ্লে বোর্ডে ফ্লাইট নম্বর ও সময় দেখে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার চেক-ইন কাউন্টার খুঁজে নিতে হবে।

চেক-ইন ও বোর্ডিং পাস সংগ্রহ

চেক-ইন কাউন্টারে পাসপোর্ট, ভিসা ও টিকিট যাচাই করা হয়। এরপর বড় লাগেজের ওজন নেওয়া হয় এবং নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তা জমা দিতে হয়। চেক-ইন শেষে যাত্রীকে বোর্ডিং পাস দেওয়া হয়। এতে আসন নম্বর, বোর্ডিং গেট ও বোর্ডিংয়ের সময় উল্লেখ থাকতে পারে। জমা দেওয়া লাগেজের ট্যাগ বা রসিদও যত্নে রাখতে হবে।

ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করা

চেক-ইনের পর ইমিগ্রেশন কাউন্টারে যেতে হয়। সেখানে পাসপোর্ট, ভিসা, বোর্ডিং পাস এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে হতে পারে। বিদেশগামী কর্মীদের ক্ষেত্রে বিএমইটি স্মার্ট কার্ডসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে দেশত্যাগের অনুমতি দেন।

নিরাপত্তা তল্লাশি

ইমিগ্রেশন শেষে নিরাপত্তা তল্লাশির ধাপ থাকে। এ সময় হ্যান্ডব্যাগ ও অন্যান্য জিনিস স্ক্যানিংয়ের জন্য নির্ধারিত ট্রেতে রাখতে হয়। মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, বেল্ট বা ধাতব সামগ্রী আলাদা করে রাখতে বলা হতে পারে। যাত্রীকেও নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তল্লাশি শেষে নিজের সব জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।

বোর্ডিং গেটে অপেক্ষা

নিরাপত্তা তল্লাশি শেষে বোর্ডিং পাসে উল্লেখিত গেটে যেতে হবে। ডিসপ্লে বোর্ডে ফ্লাইটের অবস্থা দেখতে হবে এবং মাইকে প্রচারিত ঘোষণায় মনোযোগ দিতে হবে। প্রয়োজনে বোর্ডিং গেট বা সময় পরিবর্তন হতে পারে।

বিমানে ওঠার নিয়ম

বোর্ডিং শুরু হলে সারিবদ্ধভাবে গেটে যেতে হয়। সেখানে বোর্ডিং পাস ও প্রয়োজন অনুযায়ী পাসপোর্ট দেখিয়ে বিমানে প্রবেশ করতে হবে। বিমানে উঠে বোর্ডিং পাসে উল্লেখিত আসনে বসে সিটবেল্ট বাঁধতে হবে এবং কেবিন ক্রুদের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

বিদেশগামী কর্মীদের বিশেষ সতর্কতা

চাকরির উদ্দেশ্যে বিদেশে গেলে পাসপোর্ট, ভিসা, বিএমইটি স্মার্ট কার্ড, চাকরির চুক্তিপত্র এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি সঙ্গে রাখতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের ফটোকপি বা ডিজিটাল অনুলিপিও আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।

অপরিচিত ব্যক্তির কাছে লাগেজ বা পাসপোর্ট দেওয়া যাবে না। অন্যের কোনো ব্যাগ বা প্যাকেট নিজের সঙ্গে বহন করাও ঝুঁকিপূর্ণ। বিমানবন্দরে সহায়তার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার কর্মী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাহায্য নিতে হবে।

প্রথমবার বিদেশযাত্রার আগে টিকিট, ভিসা, পাসপোর্টের মেয়াদ, লাগেজের নিয়ম এবং গন্তব্য দেশের প্রবেশসংক্রান্ত শর্ত যাচাই করে নেওয়া জরুরি। সঠিক প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় নথি সঙ্গে থাকলে বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা অনেক সহজ হয়।