ইইউতে অনিয়মিত প্রবেশ কমেছে এক-তৃতীয়াংশ
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:২২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বহিরাগত সীমান্ত দিয়ে অনিয়মিত প্রবেশের সংখ্যা চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ধরনের প্রবেশের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে ৯১ হাজারের কিছু বেশি। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫০০।
বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত ইনফোমাইগ্র্যান্টসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপমুখী প্রধান অভিবাসন রুটগুলোর প্রায় সবকটিতেই অনিয়মিত প্রবেশ কমেছে। এর মধ্যে সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় ও আটলান্টিক রুটে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। তবে পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় রুটে প্রবেশের ঘটনা বেড়েছে।
পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটে সবচেয়ে বেশি প্রবেশ
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুট ছিল অনিয়মিত প্রবেশের সবচেয়ে ব্যস্ত পথ। এ রুট দিয়ে প্রায় ৩১ হাজার ৮০০টি প্রবেশের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ কম।
অন্যদিকে, সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় রুটে প্রবেশ শনাক্তের সংখ্যা কমেছে সবচেয়ে বেশি—৫৬ শতাংশ। আটলান্টিক রুটের পশ্চিম আফ্রিকান পথ দিয়ে প্রবেশের ঘটনা কমেছে ৪৫ শতাংশ।
ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, মৌরিতানিয়ার পাশাপাশি সেনেগাল ও গাম্বিয়া সাম্প্রতিক সময়ে স্পেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এর ফলে আটলান্টিক রুট দিয়ে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা কমেছে। তবে এ রুটে অভিবাসন প্রবাহ এখনো অনিশ্চিত।
পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় রুটে উল্টো চিত্র
প্রধান অভিবাসন রুটগুলোর মধ্যে পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় রুটে অনিয়মিত প্রবেশের ঘটনা বেড়েছে। এ রুটে প্রায় ১৮ হাজার ৩০০টি প্রবেশ শনাক্ত করা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি।
ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, এ রুটে আলজেরিয়া প্রধান যাত্রার দেশ। অন্যদিকে, স্পেনের বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জ ও দেশটির মূল ভূখণ্ড ছিল অভিবাসীদের প্রধান গন্তব্য।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় জোর
ফ্রন্টেক্সের মতে, অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সহযোগিতা এবং যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে ইউরোপের উদ্দেশে নৌযাত্রা কমেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন আশ্রয় ও অভিবাসন চুক্তির আওতায় বহিরাগত সীমান্তে আরও কঠোর যাচাইপ্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে সদস্য দেশগুলোকে সহায়তা করছেন ফ্রন্টেক্সের কর্মকর্তারা। এর মধ্যে রয়েছে আগত ব্যক্তিদের জাতীয়তা নির্ধারণ, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ এবং ভ্রমণসংক্রান্ত নথি যাচাই।
তবে অনিয়মিত প্রবেশ কমলেও পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। ফ্রন্টেক্সের নির্বাহী পরিচালক হ্যান্স লেইটেন্স বলেন, অভিবাসন পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের উদ্দেশে আটলান্টিক রুটে অনিয়মিত প্রবেশের ঘটনা আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে চার গুণ বেড়েছিল।
তিনি আরও বলেন, মানবপাচারকারী নেটওয়ার্কগুলো পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায় না। তারা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে গিয়ে নতুন সুযোগের অপেক্ষা করে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকা জরুরি।
ভূমধ্যসাগরে প্রাণহানি অব্যাহত
অনিয়মিত প্রবেশের সংখ্যা কমলেও সমুদ্রপথে অভিবাসীদের প্রাণহানি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এ পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে প্রায় দুই হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই এবং সমুদ্রযাত্রার অনুপযোগী নৌযানে অভিবাসীদের ইউরোপে পাঠাচ্ছে পাচারকারী নেটওয়ার্কগুলো। প্রতিকূল আবহাওয়া ও সমুদ্রের পরিস্থিতিতে এসব নৌযানে যাত্রা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
সংস্থাটির মতে, অনিয়মিত প্রবেশের সংখ্যা কমলেও সমুদ্রপথে অভিবাসীদের জীবনহানির ঝুঁকি রয়ে গেছে।



