কোরবানিযোগ্য দেখাতে ডেন্টাল কেয়ারে নিয়ে তোলা হলো ছাগলের দাঁত

ত্রিশালে তীব্র ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২:৩৯ অপরাহ্ণ, মে ২৪, ২০২৬

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিক্রির উদ্দেশ্যে একটি কম বয়সী (অপরিপক্ব) ছাগলকে কোরবানিযোগ্য দেখাতে মানুষের ডেন্টাল কেয়ারে নিয়ে তার দাঁত তোলার এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ত্রিশাল পৌরসভার মহিলা কলেজ গেট সংলগ্ন ‘আলভি ডেন্টাল কেয়ার’-এ এই জঘন্য ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর পৌরসভার জামে মসজিদ রোড এলাকা থেকে লিটন নামের এক ব্যক্তি ও তার একজন সহযোগীকে আটক করে স্থানীয় জনতা। পরে উপস্থিত লোকজনের চাপের মুখে তারা ছাগলের দাঁত তোলার কথা স্বীকার করেন। তবে ছাগলটিকে হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করতে পশুর চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে কেন মানুষের ডেন্টাল কেয়ারে নেওয়া হলো—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তারা দিতে পারেননি। তারা কেবল জানান, সেখানে দাঁত তোলা হয় জেনেই তারা ছাগলটি নিয়ে এসেছিলেন।

এদিকে কোরবানির মতো একটি পবিত্র ও ধর্মীয় সংবেদনশীল বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন জালিয়াতির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, কম বয়সী ছাগলের দাঁত তুলে বয়স গোপন করার মাধ্যমে ক্রেতাদের সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা করা হয়েছে, যা একই সঙ্গে প্রাণীর প্রতি চরম নিষ্ঠুর আচরণ। এ বিষয়ে আলভি ডেন্টাল কেয়ারের মালিক দন্ত চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন মানিক জানান, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না এবং তার এক কর্মচারী না বুঝেই এই কাজ করেছে। রাকিব নামের ওই কর্মচারীও কোনো টাকা না নিয়ে পরিচিত লোকের অনুরোধে দাঁত তোলার কথা স্বীকার করেছেন।

এই মর্মান্তিক ও অনৈতিক ঘটনার প্রেক্ষিতে ত্রিশাল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা বলেন, প্রাণিকল্যাণ আইন অনুযায়ী এটি একটি কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, ১০ হাজার থেকে শুরু করে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। পবিত্র ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে এ ধরনের পশুর ওপর নিষ্ঠুরতা ও ক্রেতা ঠকানোর সিন্ডিকেট বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।