দাম বাড়ার দৌড়ে ডিম-মুরগি, ডজন ১৫০ ও কেজি ২০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩:১৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২৬
রাজধানীর বাজারে আবারও বেড়েছে ডিম ও মুরগির দাম। ফার্মের বাদামি ডিমের ডজন এখন ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক দিনের ব্যবধানে ডজনপ্রতি দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। একই সঙ্গে ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়ে প্রতি কেজি ২০০ টাকায় উঠেছে।
ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, বৃষ্টির কারণে ডিম ও মুরগির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। তবে আরেক পক্ষের অভিযোগ, সরবরাহ কমার পাশাপাশি শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে সরবরাহকারীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
মালিবাগ বাজারের ডিম ব্যবসায়ী মো. শরীফ জানান, কয়েক দিনের ব্যবধানে পাইকারিতে ফার্মের বাদামি ডিমের দাম বেড়েছে। বৃহস্পতিবার ১০০ পিস ডিম ১ হাজার ২০০ টাকায় কিনতে হয়েছে। কয়েক দিন আগেও একই পরিমাণ ডিম ১ হাজার ১২০ থেকে ১ হাজার ১৩০ টাকায় পাওয়া যেত।
তিনি বলেন, অন্যান্য খরচ যোগ করে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমে গেলে পাইকাররা দাম বাড়িয়ে দেন। এর প্রভাব পড়ে খুচরা বাজারেও।
শরীফ বলেন, এক মাস আগেও ফার্মের বাদামি ডিমের ডজন ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এখন সেটি বেড়ে ১৫০ টাকা হয়েছে।
কদমতলী এলাকার খুচরা বিক্রেতা মো. মিলন হোসেন বলেন, ডিমের দাম ডজনে প্রায় ৫ টাকা বেড়েছে। বুধবার ফার্মের বাদামি ডিমের ডজন ১৪০ টাকায় বিক্রি করলেও বৃহস্পতিবার তা ১৪৫ টাকা হয়েছে। আর বাছাই করা বড় আকারের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়।
তিনি বলেন, বৃষ্টির সময় সাধারণত ডিমের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। পাশাপাশি শুক্রবার বাজারে ডিম ও মুরগির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এ সময় পাইকাররাও বাড়তি দামে পণ্য সরবরাহ করেন।
বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দামও
ডিমের পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে। মালিবাগ বাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. ফারুক মিয়া জানান, বুধবার ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে পাইকারিতে দাম বাড়ায় এখন প্রতি কেজি ২০০ টাকা করে বিক্রি করতে হচ্ছে।
এদিকে সোনালি মুরগির দামও বেড়েছে। কদমতলী সাদ্দাম মার্কেটের মুরগি ব্যবসায়ী মো. জিসান জানান, শুক্রবারের বাজারকে কেন্দ্র করে পাইকারিতে সোনালি মুরগির দাম বাড়তি থাকে।
বৃহস্পতিবার বড় আকারের সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এর আগের দিন বুধবার দাম ছিল ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা। অন্যদিকে কালারবার্ডের দাম বেড়ে ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা হয়েছে, যা আগে ৩২০ টাকার মধ্যে ছিল।
সিন্ডিকেটের দিকে অভিযোগ
ব্যবসায়ীরা বৃষ্টির কারণে দাম বাড়ার কথা বললেও বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেটের কারসাজির অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি সুমন হাওলাদার।
তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ডিম ও মুরগির দাম বাড়তি—এ কথা ঠিক। বৃষ্টিরও কিছুটা প্রভাব রয়েছে। তবে বর্তমানে যেভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে, তার পুরোটা বৃষ্টির প্রভাবে হয়েছে বলে মনে করেন না তিনি।
সুমন হাওলাদারের দাবি, রাজধানীর বাজারে ডিম ও মুরগি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসে, যেখানে বৃষ্টি বা বন্যার তেমন প্রভাব নেই। তাঁর অভিযোগ, মূলত বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেটের কারণেই দাম বাড়ছে।
তিনি বলেন, ছোট খামারিদের হাতে বর্তমানে ডিম-মুরগির মজুত কম। বড় খামারি বা ব্যবসায়ীদের হাতে সরবরাহ রয়েছে এবং তারাই বাজারে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।



