আদ-দ্বীনের ৬ শিশুর মৃত্যু এসি গ্যাস লিকেজ নয়, ‘দমবন্ধ’ হয়ে!
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩:১৭ অপরাহ্ণ, মে ২৭, ২০২৬
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে কক্ষের এসি বন্ধ থাকা এবং পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন বা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকাকে দায়ী করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের দাবি, তীব্র গরমে কক্ষের ভেতর ‘দমবন্ধ’ হয়েই শিশুগুলোর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
আজ বুধবার (২৭ মে ২০২৬) দুপুরে আদ্-দীন হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের মহাপরিচালক (হসপিটালস অ্যান্ড নার্সিং) অধ্যাপক ডা. নাহিদা ইয়াসমিন এই তথ্য জানান। এর আগে স্বজনরা এসি গ্যাস লিকেজের কারণে বিষাক্ত বাতাসে শিশুদের মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছিলেন।
কক্ষের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ভিড়
ডা. নাহিদা ইয়াসমিন সংবাদ সম্মেলনে জানান, যে ওয়ার্ডটিতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানে ১১ জন প্রসূতি মা এবং তাঁদের সদ্য ভূমিষ্ঠ ৬টি শিশু ছিল, যাদের বয়স মাত্র এক থেকে দুই দিন। সাধারণত সিজারিয়ান অপারেশনের পর মা ও নবজাতকদের এই ওয়ার্ডে রাখা হয়। তবে মায়েদের সাথে অতিরিক্ত স্বজন বা এটেনডেন্ট থাকার কারণে কক্ষটিতে মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল।
শেষ রাতে কী ঘটেছিল?
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিবরণ অনুযায়ী, রাতের দিকে হঠাৎ দুটি শিশু কিছুটা অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত তাদের হাসপাতালের নিউনেটাল আইসিইউতে (NICU) নেওয়া হয়। রাত ৩টার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশুরা ভালো আছে বলে নিশ্চিত করেন এবং তাদের পুনরায় সাধারণ ওয়ার্ডে মায়ের কাছে ফেরত পাঠান।
মহাপরিচালক বলেন, “ভোর ৬টার পর হঠাৎ দায়িত্বরত নার্স লক্ষ্য করেন এবং মায়েরাও জানান যে তাদের বাচ্চারা ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সাথে সাথে ছয়টি বাচ্চাকেই দ্রুত নিউনেটাল আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। তবে সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা দুটি বাচ্চাকে ইতিমধ্যেই মৃত অবস্থায় পান।”
ভেন্টিলেটর সাপোর্টেও বাঁচানো যায়নি ৪ শিশুকে
বাকি চারটি শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের লাইফ সাপোর্ট বা ভেন্টিলেটর সাপোর্টে নেন। ডা. নাহিদা ইয়াসমিন বলেন, চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ওই চার নবজাতককেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এসি বন্ধ থাকা এবং আবদ্ধ ঘরে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতির কারণে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে কি না, তা আরও নিশ্চিত হতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্তের ব্যবস্থা করছে বলে জানা গেছে। এদিকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ৬টি নবজাতকের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে হাসপাতাল জুড়ে এখনো শোকার্ত ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।



