ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি ‘বুমেরাং’ হবে: পুতিন

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ, জুন ৭, ২০২৬

ভারতের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার যেকোনো বাহ্যিক চেষ্টা কিংবা নিষেধাজ্ঞার হুমকি উল্টো ফল বয়ে আনবে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা রাখে এবং কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।

সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পুতিন এ মন্তব্য করেন। খবর দ্য হিন্দুর।

পুতিন বলেন, “ভারত একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারতের বিরুদ্ধে যেকোনো নিষেধাজ্ঞা বা চাপ প্রয়োগের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে ফিরে আসবে।”

প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অতীতে মোদির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাশিয়ার অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সুখই-৫৭ বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৫০০ কেনার কারণে ভারতের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পুতিন বলেন, কোনো দেশ তার প্রয়োজন অনুযায়ী সেরা প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম বেছে নেওয়ার অধিকার রাখে।

তিনি বলেন, “ভারত সবসময় নিজের স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যরা কী বলছে বা ভাবছে, তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন নয়।”

ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতার গভীরতার কথা তুলে ধরে পুতিন বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক শুধু ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরির ক্ষেত্রেও দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়া ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে ‘ব্রাহ্মোস’ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি হয়েছে, যা দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অন্যতম সফল উদাহরণ।

সুখই-৫৭ যুদ্ধবিমান প্রসঙ্গে পুতিন দাবি করেন, এটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর একটি। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে ভারতের কাছে এই যুদ্ধবিমান বিক্রিতে রাশিয়া প্রস্তুত রয়েছে।

কয়েক দশক ধরে রাশিয়া ভারতের প্রধান সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের পর সরবরাহে বিলম্ব এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে ভারত বর্তমানে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিকল্প উৎসের দিকেও নজর দিচ্ছে।

এদিকে, নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির লক্ষ্যে ভারত ‘এএমসিএ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে এই যুদ্ধবিমান ২০৩৫ সালের আগে দেশটির বিমানবাহিনীতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে অন্তর্বর্তী সময়ে বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে রাশিয়ার সুখই-৫৭ কেনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।