‘ডিসেম্বরে আসেন, দেখা হবে রাজপথে’ : ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬:৩৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০২৬

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থানরত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন— এমন প্রচারণার জবাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘পলাতক ফ্যাসিস্ট বলে যে ডিসেম্বর মাসে তারা দেশে এসে পদার্পণ করবেন। আমরা অপেক্ষায় আছি। দেশে আসেন, দেখা হবে ইনশাল্লাহ রাজপথে।’

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা তো আর আওয়ামী লীগ হতে পারব না, হতেও চাই না। আওয়ামী লীগকে দেখেন, তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। এত অন্যায়-অবিচার, খুন-গুম, মানি লন্ডারিং, হত্যা, নির্যাতন, আয়নাঘর— এসবের জন্য তারা কোনো লজ্জাবোধ করে না।’

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মাহুতি দেওয়া পরিবারগুলোর দেখভাল করা বর্তমান সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র দায়িত্ব। একই সঙ্গে আহত, দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং অঙ্গহানির শিকার ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ইয়ামিন, ফারহান, নাফিজ, সজল, রাব্বি, মেরাজ, এলেম, তাইম, নাইমা, শিশু রিয়া গোপ, আহাদসহ সব শহীদকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাদের আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেম জাতিকে চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে বলেও উল্লেখ করেন।

নিজের মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। এখন ৮২ বছর বয়সে আরেকটা করব, বাংলাদেশের জন্য, বাংলাদেশের জনগণের জন্য সুশাসন ও গণতন্ত্র চিরস্থায়ী করে যাব।’

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে অনেক রাষ্ট্র আছে, কিন্তু এমন নাগরিক খুব কম আছে, যারা উদ্যত বন্দুকের সামনে আবু সাঈদের মতো দুই হাত তুলে দাঁড়াতে পারে। আমরা সেই জাতি। তাদের নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি।’

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সুযোগ এনে দিয়েছে। এখন জাতীয় লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা ভোগ করবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন যাত্রাপথ সহজ হবে না। মতের ভিন্নতা থাকলেও জাতীয় স্বার্থ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্য, সংযম ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে।

জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো বিভাজন, বিদ্বেষ বা সংকীর্ণ স্বার্থ যেন দেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।