বয়সসীমা বেঁধে দিল কুয়েত, ৭০ পেরোলেই ফিরতে হবে দেশে

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:৪৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০২৬

কুয়েতে ৭০ বছরের বেশি বয়সী বিদেশি শ্রমিকদের আকামা (রেসিডেন্সি) নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সামাজিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়। নতুন এ নীতি কার্যকর হলে ৭০ বছর পেরিয়ে যাওয়া বিদেশি শ্রমিকদের কুয়েত ছাড়তে হবে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শ্রমবাজারে শৃঙ্খলা আনা এবং তরুণ কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী বিদেশি শ্রমিকদের আকামা আর নবায়ন করা হবে না। ফলে তাদের বৈধভাবে কুয়েতে থাকার সুযোগ শেষ হয়ে যাবে এবং নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। এতে দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবেন।

কুয়েত সরকার বলছে, বয়সসীমা নির্ধারণের মাধ্যমে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বয়সজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং কর্মদক্ষতার বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় নিয়োগকর্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।

এদিকে একই সঙ্গে দাতব্য সংগঠনগুলোর কার্যক্রমেও নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে সামাজিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অর্থের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর আরও কঠোর নজরদারি করা হবে।

কুয়েতের শ্রমবাজারে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। নতুন নীতি কার্যকর হলে বহু অভিজ্ঞ শ্রমিককে দেশে ফিরতে হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে প্রবাসী পরিবারগুলোর আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং অনেক পরিবার আর্থিক চাপে পড়তে পারে।

তবে কুয়েত সরকারের দাবি, এ সিদ্ধান্ত শ্রমবাজারে ভারসাম্য আনবে, তরুণ ও দক্ষ কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে চাপ কমাবে।

অন্যদিকে প্রবাসী সংগঠনগুলোর দাবি, হঠাৎ এ ধরনের সিদ্ধান্তে অনেক শ্রমিক বিপাকে পড়বেন। তাই নীতি বাস্তবায়নের আগে কিছুটা সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।