৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে ভারত
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৬:৩৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০২৬
২০২৮-২৯ অর্থবছরে ভারতের অর্থনীতির আকার ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বর্তমানে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারত এ লক্ষ্য অর্জনে বহুমুখী প্রবৃদ্ধি কৌশল বাস্তবায়ন করছে।
বুধবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, রাজ্যসভায় লিখিত এক জবাবে দেশটির অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেন, আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (এপ্রিল ২০২৬) অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার প্রায় ৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে।
অর্থমন্ত্রী জানান, এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, উৎপাদনশিল্পের বিকাশ, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) খাতকে সহায়তা, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, সরবরাহব্যবস্থা উন্নয়ন এবং ব্যবসা পরিচালনা সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, আয়কর ও জিএসটি সংস্কার, উদ্ভাবন ও ডিজিটাইজেশনে উৎসাহ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সরকারের কৌশলের অংশ। পাশাপাশি সরকারি মূলধনী ব্যয় বৃদ্ধি, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) নীতির উদারীকরণ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিচক্ষণ রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উৎপাদনশিল্পকে এগিয়ে নিতে প্রোডাকশন লিংকড ইনসেনটিভ (পিএলআই), মেক ইন ইন্ডিয়া, ন্যাশনাল লজিস্টিকস পলিসি, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেম এবং পিএম গতিশক্তি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো।
এমএসএমই খাতের জন্য ঋণ গ্যারান্টি বৃদ্ধি, ইমার্জেন্সি ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম, সহজতর নিবন্ধন, সরকারি ই-মার্কেটপ্লেসে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্পের আওতায় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
সেবা খাতে ডিজিটাল অবকাঠামো, গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার, মেডিক্যাল ভ্যালু ট্রাভেল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডিজিটাল ইকোসিস্টেম উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
কৃষি খাতে সেচব্যবস্থা, প্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল কৃষি, ফসলের বহুমুখীকরণ, ফসল-পরবর্তী অবকাঠামো এবং বাজারে প্রবেশাধিকার উন্নয়নের ওপরও জোর দিচ্ছে সরকার।
সীতারামন জানান, সাম্প্রতিক বাজেটগুলোতে সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিকস, বায়োফার্মাসিউটিক্যাল, বিরল খনিজ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং উন্নত উৎপাদনশিল্পকে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তার মতে, এসব পদক্ষেপ ভারতের মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।
এদিকে রাজ্যসভায় আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সারফেসি আইন, ২০০২-এর আওতায় ব্যাংকগুলো ২ লাখ ১৫ হাজার ৭০৯টি মামলা দায়ের করেছে, যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ৩ হাজার ১৮০ কোটি রুপি। এর মধ্যে ৩২ হাজার ৪৬৬ কোটি রুপি আদায় করতে সক্ষম হয়েছে ব্যাংকগুলো।



