যে শর্তে কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন মমতা?
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৮:০৫ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও তৃণমূল কংগ্রেসে (টিএমসি) ভাঙনের গুঞ্জনের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন দলটির সর্বভারতীয় সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলটির লোকসভা ও বিধানসভা উভয় স্তরে সংকট ঘনীভূত হওয়ায় তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে অংশ নিতে গিয়ে শর্ত সাপেক্ষে তিনি কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন—এমন গুঞ্জনও রাজনৈতিক মহলে ছড়িয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেস ও তৃণমূলের সম্ভাব্য সমঝোতা বা সংযুক্তিকরণ নিয়ে দুই দলের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে উভয় দলে মতভেদও রয়েছে।
সূত্রের দাবি, কংগ্রেসের একাংশ মমতাকে দলে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী হলেও পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের একটি বড় অংশ এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে। তাদের আশঙ্কা, অতীত রাজনৈতিক বিরোধ ও অভিযোগের কারণে এ সিদ্ধান্ত তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।
প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী ও আবদুল মান্নান প্রকাশ্যে এ ধরনের কোনো জোট বা সংযুক্তিকরণের বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক সমঝোতা দলীয় আদর্শ ও অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
অন্যদিকে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার তুলনামূলকভাবে নরম অবস্থান নিয়ে বলেছেন, কোনো নেতা দলে যোগ দিতে চাইলে তাকে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব ও দলীয় অবস্থান মেনে নিতে হবে।
এদিকে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন আরও জোরদার হয়েছে দুই দলের শীর্ষ পর্যায়ের সাম্প্রতিক বৈঠককে কেন্দ্র করে। এক দিন আগে ১০ জনপথে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক হয়। একইভাবে বুধবার (১০ জুন) রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, যা প্রায় দেড় ঘণ্টা স্থায়ী হয়।
পরপর এই বৈঠকগুলোকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।



