অভিনব কৌশলে আড়ালে মোজতবা খামেনি

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৮:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২, ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান শনাক্ত করতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তবে একের পর এক নিরাপত্তা কৌশল এবং কঠোর গোপনীয়তার কারণে তিনি এখনো তাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টাইমস

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে তার বাবা নিহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনি আর জনসমক্ষে আসেননি। তার অবস্থান গোপন রাখতে তেহরান বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এমনকি তাকে বিভ্রান্তিকরভাবে আড়াল করতে তার মতো দেখতে একাধিক ব্যক্তিকেও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

দ্য টাইমস জানায়, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এবং আমেরিকার সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) যৌথভাবে এবং আলাদাভাবে মোজতবার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করছে। যদিও এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি, তবু গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উল্লেখযোগ্য সময় ও সম্পদ এ অভিযানে ব্যয় হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ছয় মাসে মোজতবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা ধরনের তথ্য প্রকাশ হয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে, তিনি সামান্য বা মাঝারি ধরনের আহত হলেও নেতৃত্ব দেওয়ার অবস্থায় আছেন। আবার কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তার মুখমণ্ডলেও বিকৃতি এসেছে।

দ্য টাইমসের দাবি, গত ১৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে মোজতবা খামেনি কোনো মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করেননি। তিনি একটি ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে অবস্থান করছেন এবং দিনের বেলায় বাইরে বের হন না, যাতে গোয়েন্দা উপগ্রহে শনাক্ত না হন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তার বাবার অবস্থান শনাক্ত করতে এর আগে আমেরিকা ও ইসরায়েল বিভিন্ন সাইবার কৌশল ব্যবহার করেছিল। তেহরানের ট্রাফিক ক্যামেরা হ্যাক করে নিরাপত্তা বহরের যানবাহন শনাক্ত করার মাধ্যমে তাদের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে মোজতবার ক্ষেত্রে সেই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি কার্যকর হচ্ছে না। ফলে বর্তমানে ইরানের ভেতরে থাকা মানব গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক বা তথ্যদাতাদের (হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স) ওপরই বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গোয়েন্দা মহলের একটি অংশের ধারণা, ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় মোজতবা খামেনি নিহত হয়ে থাকতে পারেন অথবা পরে আঘাতের কারণে মারা গেছেন। তবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড তার জীবিত থাকার তথ্য প্রচার করছে কি না, সেটিও যাচাই করার চেষ্টা চলছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যদি তিনি জীবিত থাকেন, তাহলে তিনি তেহরানের কোনো ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ অথবা রাজধানী থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের কোম শহরের কাছে একটি সামরিক বাঙ্কারে অবস্থান করতে পারেন।

মোসাদের সাবেক বন্দি ও নিখোঁজবিষয়ক বিভাগের প্রধান রামি ইগ্রা দ্য টাইমসকে বলেন, মোজতবা যদি ফোন ব্যবহার না-ও করেন, তবুও কোনো না কোনোভাবে যোগাযোগ করছেন। কাগজে লেখা বার্তা বা বার্তাবাহকের মাধ্যমে সেই যোগাযোগ হতে পারে। তাকে খুঁজে বের করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হবে মানব গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ।

তিনি বলেন, আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকেও শেষ পর্যন্ত একজন বার্তাবাহককে অনুসরণ করেই খুঁজে বের করা হয়েছিল। মোজতবার ক্ষেত্রেও একই ধরনের কৌশল কার্যকর হতে পারে।

মোসাদের সাবেক আরেক কর্মকর্তা আভনার আব্রাহাম দাবি করেন, মোজতবার অবস্থান গোপন রাখতে ইরান শুধু কঠোর নিরাপত্তাই নয়, তার মতো দেখতে একাধিক ব্যক্তিকেও ব্যবহার করছে। এ কারণেই তিনি তার বাবার জানাজা ও দাফনেও প্রকাশ্যে উপস্থিত হননি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যদিও মাঝে মাঝে তার নামে লিখিত বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে, এখন পর্যন্ত তার কণ্ঠে কোনো অডিও বা ভিডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক এক মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে মানব গোয়েন্দা তথ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে গত চার দশক ধরে ইরানে আমেরিকার মানব গোয়েন্দা সক্ষমতা সীমিত থাকায় এ ক্ষেত্রে ইসরায়েলের নেটওয়ার্কই তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর হতে পারে।

দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে উত্থাপিত এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।